রূপে-রঙে বসন্তের সাজ

  

পিএনএস ডেস্ক:শীতের শেষ, বসন্ত কড়া নাড়ছে দরজায়। প্রকৃতি সাজতে শুরু করেছে নতুন রূপে। বসন্তকে বরণ করে নিতে ফ্যাশন প্রেমীরাও উন্মুখ। সাজে, পোশাকে বসন্তকে বরণ করে নিতে তাদের যেন আগ্রহের শেষ নেই। আপনিই বা সেই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন কেন। বসন্ত বরণের প্রস্তুতি কম-বেশি সবার মাঝেই থাকে।

তাই বসন্তের সাজ নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন-

শীতের শেষে ঘুমন্ত প্রকৃতি জেগে উঠতে প্রস্তুত। প্রকৃতির এই উৎসবে নিজেকেও সাজিয়ে নিতে পারেন স্নিগ্ধ সাজে। যেহেতু গরম পড়তে শুরু করেছে, সাজ খুব বেশি জমকালো হওয়ার প্রয়োজন নেই। বসন্ত ও প্রকৃতির স্নিগ্ধতা গায়ে মেখেই ভালোবেসে সেজে নিন এদিন।

বসন্ত মানেই প্রকৃতিজুড়েই রঙিন ফুলের সমাহার। তাই এই বসন্তবরণে বেছে নিতে পারেন বাহারি ফুলের গহনা। বসন্তবরণে ফুলের গহনাই বেশ মানানসই। ফুলের গহনা আপনার সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলবে। তাই আপনার গহনা হিসেবে হাতে, গলায়, কানে ও কোমরে ব্যবহার করতে পারেন ফুলের গহনা।

কেমন চাই বসন্তের মেকআপ?

বেইজ মেকআপ: প্রথমত রোদের জন্য মুখে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে ৫-৮ মিনিট অপেক্ষা করুন। সানস্ক্রিন শুকিয়ে এলে আবার বেইজ মেকআপ শুরু করা যাবে। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশনকে না বলাটাই ভালো। তাই বেইজ মেকআপের জন্য বিবি ক্রিম বা টিন্টেড ময়েস্চারাইজার লাগান। কন্সিলার দিয়ে মুখের ছোটখাটো দাগগুলো ঢেকে দিতে পারেন। ফাইনাল ফিনিশিং দিতে লুজ পাউডার বা ফেইস পাউডার বুলিয়ে নিন। যখন আপনি বুঝবেন আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেছে, তাহলে আপনার বেইজ মেকআপ তৈরি হয়ে গেল। এরপর ইচ্ছে হলে হালকা পিচ বা গোলাপি রঙের ব্লাশন লাগাতে পারেন।

চোখের সাজ চোখের সাজের জন্য ব্যবহার করুন উজ্জ্বল রংগুলো যেমন ব্রাউন, গোল্ডেন, কপার, সোনালি বাদামি, লালচে সোনালি ইত্যাদি রঙের আইশ্যাডো। এরপর চোখে মোটা করে কাজল লাগান এবং চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগান এক কোট। ব্যাস, হয়ে গেল চোখের সাজ।

চুলের সাজ

ফুলের রিং: আগে নারীরা ফাল্গুনে যেমন খোপার এক পাশে একটি বা দুটি ফুল গুঁজে দিতো এখন সেই স্টাইল অনেকটাই চলে গিয়েছে। ফুলের গহনা ও ফুল লাগানোর ধরণে এসেছে অনেক পরিবর্তন। খুব ছিম ছাম গহনা পরে মাথায় একটি বড় ফুলের রিং পরার প্রচলনটাই বেশি এখন। গত কয়েক বছর ধরেই এই প্রচলনটা বেশি দেখা যাচ্ছে। তরুণীরা শাড়ি, সেলোয়ার কামিজ কিংবা ফতুয়ার সঙ্গে মাথায় এই ফুলের রিং গুলো পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সব ধরনরে সাজের সঙ্গেই মানিয়ে যায় এই ফুলের রিং গুলো। একটি বোহেমিয়ান ধাঁচের এই ফুলের রিং গুলো সাজে আনে ভিন্নতা ও আভিজাত্য।

খোলা চুলে ফুল: চুলে ফুল পরতে হলেই চুল বাধতে হবে এমন ধারণায় এসেছে পরিবর্তন। এখন তরুণীরা খোলা চুলেই পরছে নানান রকমের ফুল তবে গোলাপ ফুল পরার প্রচলন একেবারেই কমে গিয়েছে। ফ্যাশন সচেতন নারীরা এখন জারবেরা কিংবা অর্কিড লাগাতেই বেশি পছন্দ করে।

বেনীতে ফুল: ইদানিং বেনির মাঝে মাঝে একটি একটি করে ছোট ফুল গুঁজে দেয়ার চল এসেছে। এই ফাল্গুনে আপনিও বেনির মাঝে ছোট ছোট ফুল গুঁজে নিতে পারেন। তাজা ফুলের পাশাপাশি কৃত্রিম ফুলও চলছে সমান তালে। গতবারের মত এইবারের ফাল্গুনেও নারীদেরকে চুলে কৃত্রিম ফুল কিংবা ফুলের ক্লিপ পরতে দেখা যাবে। লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

গয়না: যেহেতু সাজ পোশাক সম্পূর্ণই হালকা তাই গয়নাটা ও হালকা মানের দেশীয় গহনা গুলো বেছে নিন। সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবীর সাথে মাটি, কাঠ কিংবা মেটালের দুল পরুন। গলায় কিছু না পরাটাই ভালো। হাত ভর্তি চুড়ি পরুন। হাতের জন্য বেছে নিন কাঠ, মাটি, মেটাল বা কাঁচের রেশমি চুড়ি। শাড়ি পরলে গলায় পরতে পারেন লম্বা পুঁতির মালা। হাত ভর্তি পরুন কাঁচের রেশমি চুড়ি।

সবশেষে, কপালে পরুন বড় একটি লাল টিপ বা বিভিন্ন ডিজাইনের ফাল্গুনের টিপ পড়তে পারেন । আপনার সাজে স্নিগ্ধতা আনতে ঠোঁটের জন্য বাছাই করুন হালকা রঙের লিপস্টিক। সাজে সজীবতা ধরে রাখতে ব্যবহার করুন হালকা সুগন্ধি।

ফাল্গুনের দিনে পোশাকে থাকবে রঙের বিচিত্রতা। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া, ফ্রক যে যাই পরুক না কেন তাতে থাকা চাই হলুদ, বাসন্তী কিংবা লাল রঙের ছোঁয়া। শুধু নারী নয়, পুরুষের শার্ট, পাঞ্জাবি বা ফতুয়ার ক্ষেত্রেই একই ব্যাপার কাজ করে। পুরুষের জন্য অবশ্য এ সময় পাঞ্জাবিই সেরা। আর কর্মব্যস্ত পুরুষদের জন্য আজকাল বুটিক হাউসগুলো বাজারে এনেছে ফাল্গুন রঙা শার্ট। ঘরে-বাইরে-কর্মক্ষেত্রে সবখানেই বসন্তকালীন পোশাকের কদর দেখা যায়।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন