শবেবরাত: নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে দিশাহারা ক্রেতা!

  23-02-2024 11:01AM



পিএনএস ডেস্ক: শবেবরাতে রুটি-মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তাই এ উপলক্ষে মাংসের বাড়তি চাহিদা থাকে। এবারের শবেবরাতের এখনো দুদিন বাকি। কিন্তু তার আগেই বাজারে গরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় গরুর সরবরাহ কম থাকায় দোকানিরা বলছেন, দাম আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে ব্রয়লার মুরগির চাহিদাও বাড়ে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এলাকাভেদে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

অন্যদিকে, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হলেও পণ্যটির দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত শাকসবজি থাকলেও তুলনামূলভাবে দাম কমেনি। প্রতি কেজি সবজি মানভেদে ৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিত্যপণ্য ও কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও আগামী ১ মার্চ থেকে তা কার্যকর হবে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করা হলেও নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষের অস্বস্তি আপাতত কমছে না।

বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা থাকায় একটি চক্র বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছে। এতে ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের তেমন সমস্যা না হলেও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম কষ্টে আছেন। এর সমাধানে সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঢাকার বাজারে আকারভেদে প্রতি পিস ফুল ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শালগম, পেঁপে, গাজর ও টমেটোর কেজি ৪০ টাকা, মুলার কেজি ৩০ টাকা, শিমের দাম কিছুটা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুনের কেজি ৬০ টাকা এবং গোল বেগুন ৮০, চিচিঙ্গা ৬০, লতি ৮০, করলা আকারভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, লাউয়ের দাম কিছুটা কমে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। খিরা ৫০ টাকা এবং শসার কেজি ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, শিমের বিচির কেজি ১২০ টাকা, মটরশুঁটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, খোসাসহ মটরশুঁটি ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শের কেজি ১২০ টাকা, কলার হালি ৩০ টাকা, আলুর কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শাকের আঁটি আকারভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মশুর ডালের কেজি মানভেদে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা, মোটা ডালের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, রসুনের কেজি ১৪০ থেকে ২০০ টাকা বা তারও বেশি। আদার কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার ১৭২ টাকা, ১ মার্চ থেকে ১৬২ টাকায় বিক্রি হবে।

এদিকে গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিআইডএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আলাদা বিষয়। এর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি বেশি হলে অস্থিরতাও বাড়ে, এটা ঠিক। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকলেও অস্থিরতা বাড়ে। এর সমাধানের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়লে সাধারণ মানুষের কষ্ট এবং দাম কমে গেলে ব্যবসায়ীদের কষ্ট হয়। এর মধ্যে অতিধনী বা ধনী শ্রেণি এবং অতিদরিদ্র বা দারিদ্র্যসীমার নিচের লোকদের কোনো সমস্যা হয় না। এর কারণ হলো, যারা দরিদ্র, তাদের চিন্তা টিসিবি আসবে কবে, বিধবা ভাতা পেল কি না। বয়স্ক ভাতা পেল কি না ইত্যাদি। আর যারা ধনী তারা যা চায় তাই পায়। এ জন্য তাদের চিন্তা নাই। সমস্যা হলো, মাঝখানের ১০ কোটির বেশি মানুষের। যারা মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যাস্ফীতির কষাঘাতে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাজারে যখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ে, তখন এটি জ্বর-সর্দির পর্যায়ে থাকে। তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখে। আর এর থেকে খারাপ কিছু হলে সংশ্লিষ্ট অন্যরা দেখেন। সেজন্য আমি মনে করি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ থাকা দরকার। একটি বাণিজ্য বিভাগ, অন্যটি ভোক্তা অধিকার বিভাগ। এটি করা গেলে বাজারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন