ইরান-ইসরায়েল হামলা বন্ধের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল

  09-06-2026 11:47AM

পিএনএস ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্রেন্ট ও অপরিশোধিত মার্কিন তেলের দাম আগের দিনের বড় উল্লম্ফনের বেশিরভাগটাই হারিয়েছে।

মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী সকাল ৪টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৩৪ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার ১৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে সোমবার ইসরায়েলের নতুন করে ইরানে হামলা এবং লেবাননে সংঘর্ষ বাড়ার ঘটনায় তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে পরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে “গুলি বন্ধ” করার আহ্বান জানানোর পর ইরান ও ইসরায়েল হামলা স্থগিতের কথা জানায়। যদিও তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েল হামলা চালালে তারা আবারও আক্রমণ শুরু করবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, “সরাসরি হামলা আপাতত বন্ধ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে, তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো নিশ্চিত নন যে এই যুদ্ধবিরতি টিকবে।”

আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “এই পরিস্থিতি আপাতত উত্তেজনা কমিয়েছে, কিন্তু স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অনেক দূরে।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে ইসরায়েলও কঠোর জবাব দেবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ালে ইসরায়েলকে একাই লড়তে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ নেবে, নাকি এটি কেবল অস্থায়ী বিরতি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার ওমান উপসাগরে একটি খালি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, যা চলমান অবরোধের লঙ্ঘন।

সূত্র: রয়টার্স


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন