পাউবো’র সিআইপি’র পাম্প প্রতিস্থাপনের নামে ১১৭ কোটি টাকা অপচয়ের পাঁয়তারা- (পর্ব-১)

  11-10-2020 05:48PM


পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : পাউবো’র চাঁদপুর ইরিগেশন প্রজেক্টের (সিআইপি) চরবাগাদী পাম্পিং স্টেশনের পাম্প প্রতিস্থানের নামে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট প্রায় ১১৭ কোটি টাকা অপচয়ের পাঁয়তারা শুরু করেছে। ইতিপূর্বে এই চক্র পাউবো’র বিভিন্ন পাম্প হাউজের পাম্পগুলোর প্রতিস্থাপনের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাউবো’র বিভিন্ন পাম্প হাউজে প্রতিস্থাপিত পাম্প খোলা বাজারে বা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকৃত মূল্য কত? ব্যাংকের এলসির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন বা প্রতিস্থাপিত যন্ত্রপাতিগুলো বর্ণিত কোম্পানী থেকে আমদানী করা হয়েছে কি না? আমদানী করা হলে কতো টাকার যন্ত্রপাতি বা মালামাল আমদানী করা হয়েছে তা যাচাই করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। সরকারের কতো টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বা অপচয় হয়েছে তাও জানা যাবে। বর্তমান পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী অত্যন্ত সজ্জন মানুষ। তাঁদের দুর্নীতিবিরোধী নীতিতে ইতিমধ্যেই পাউবো’র দুর্নীতি-অনিয়ম সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। তারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে পাম্পিং হাউজগুলো রক্ষার পাশাপশি সরকারের আর্থিক অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

পাউবো’র সাবেক কয়েকজন প্রকৌশলী যারা পাম্প হাউজ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তাদের মতে, সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা অভার হোলিং খাতে ব্যয় করলেই স্বল্প সময়ে চাঁদপুর ইরিগেশন পাম্পের বিদ্যমান ৬টি পাম্প ১০/১৫ বছর অনায়াসে চলবে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট তাঁদের পকেট ভারী করার লক্ষ্যে ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা খরচ করার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। এই টাকা খরচ করে বিদ্যমান পাম্পগুলো অপসারণ করে সেখানে নতুন পাম্প প্রতিস্থাপিত হবে। ইতিপূর্বে যে সমস্ত পাম্পিং হাউজে যে সমস্ত পাম্প প্রতিস্থাপিত হয়েছে তার গুণগতমান ও আর্থিক মূল্য নিয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে যা পাউবো’র সংশ্লিষ্টরা তদন্তের আওতায় আনতে সাহস করেনি। কারণ, সর্ষের মধ্যেই ভূত ছিল। প্রতিস্থাপিত এই পাম্পগুলো নিয়ে পাউবো বিপাকে পড়েছে।

পাউবো’র একটি সূত্র জানায়, চাঁদপুরের চরবাগাদীতে অবস্থিত চাঁদপুর ইরিগেশন প্রজেক্টের ৬টি পাম্পের গুণগতমান এখন পর্যন্ত খুবই ভাল। ১৯৭৬ সালে জাপানের EBARA CORPORATION এই পাম্পগুলো স্থাপন করে। বিগত ৪৪ বছরে পাম্প হাউজের মেজর অভার হোলিং প্রয়োজন পড়েনি। শুধুমাত্র গিয়ার বক্স প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখনো পাম্প চালালে প্রচন্ড গতিতে পাম্পের পূর্ণ ক্যাপাসিটিতে চলতে সক্ষম এবং অদ্যাবধি অনায়াসেই পাম্পগুলো চলছে। এই রকম চলমান একটি পাম্প প্রতিস্থাপনের নামে ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জলাঞ্জলী দেয়ার কি প্রয়োজন আছে তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, চাঁদপুর ইরিগেশন প্রজেক্টের চর বাগাদী পাম্পিং স্টেশনের পাম্প প্রতিস্থানের অপকর্ম পরিত্যাগ করে গুণগতমানের পাম্পগুলো মেরামত করে সরকারের প্রায় ১১৭ কোটি টাকার অপচয় রোধ করা প্রয়োজন। পাম্পিং স্টেশনের পাম্প প্রতিস্থাপনের নামে কি পরিমান দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা অতীব জরুরী।

ভূক্তভোগীমহল এ ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুদক, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন