পিএনএস ডেস্ক: হেপাটাইটিস ‘বি’ হলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক লিভারের রোগ। এ রোগের সংক্রমণ স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়ে লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, ফলে রোগটি অজান্তেই দীর্ঘদিন শরীরে থেকে যায়। এ কারণেই হেপাটাইটিস ‘বি’কে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। বাংলাদেশে এ ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।
হেপাটাইটিস ‘বি’ কীভাবে ছড়ায়
হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস শরীরের বিভিন্ন তরল যেমন রক্ত, লালা, যোনি তরল ও বীর্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমাদের দেশে ইনজেকশনের মাধ্যমে বেশি ছড়ায়। যারা মাদক নেন তাদের মধ্যে ছড়ায় বেশি। কারণ তারা একই সুঁই অনেকে বা বারবার ব্যবহার করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমেও হয়। তবে এটি এখন অনেক কমে গেছে।
হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে একজন মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। বাবা বা মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, তবে বিশেষ করে আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রক্ত বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন, জীবাণুমুক্ত নয় এমন যন্ত্র দিয়ে ট্যাটু করানো, অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও হেপাটাইটিস ‘বি’ ছড়াতে পারে।
তবে সচেতনতা ও টিকাদানের মাধ্যমে এ রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে নিরাপদ ও অত্যন্ত কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে। সাধারণত জন্মের পরপরই নবজাতককে প্রথম ডোজ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বুস্টার ডোজ প্রদান করা হয়। সঠিকভাবে টিকা গ্রহণ করলে এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘বি’ এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ধারণা করা হয়, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, যা প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের সমান। বর্তমানে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ রোগের জটিলতায় মারা যান। অথচ সময়মতো প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ।
হেপাটাইটিস ‘বি’ এর লক্ষণ
সদ্য সংক্রমিত হলে অধিকাংশ মানুষ কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১ থেকে ৪ মাস পর এই লক্ষণগুলো বোঝা যায়। বেশ কিছু লোকের ক্ষেত্রে, সাধারণত ছোট বাচ্চাদের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
হেপাটাইটিস ‘বি’ এর সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ হচ্ছে-
১. পেটে ব্যথা
২. গাঢ় প্রস্রাব
৩. জ্বর
৪. সন্ধিতে যন্ত্রণা
৫. ক্ষুধামান্দ্য
৬. বমি বমি ভাব ও বমি
৭. দুর্বলতা ও ক্লান্তি
৮. ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া, যাকে সাধারণ কথায় জন্ডিস বলা হয়
৯. হেপাটাইটিস বি ভাইরাস গুরুতর আকার ধারণ করলে বা লিভারকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে
পিএনএস/এএ
হেপাটাইটিস বি হয়েছে কি না যেভাবে বুঝবেন
09-06-2026 08:57PM

