মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা

  09-06-2026 11:59PM

পিএনএস ডেস্ক: থাইল্যান্ডের রাজকীয় বিশেষ ক্ষমা পাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সব ধরনের আইনি বিধিনিষেধ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকসিন সিনাওয়াত্রা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) থাইল্যান্ডের কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ৭৬ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিক আট মাস সাজা খাটার পর বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত মাসে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন।

কারা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শর্তসাপেক্ষ প্যারোলে মুক্তির অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পায়ে এত দিন একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস ‘ইএমডি’ পরা বাধ্যতামূলক ছিল। আজ থাইল্যান্ডের কারা কর্তৃপক্ষ থাকসিন সিনাওয়াত্রার পা থেকে সেই ট্র্যাকিং ডিভাইসটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিয়েছে। কারা প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাগার কর্তৃপক্ষ থাকসিনের কাছে তাঁর অফিশিয়াল মুক্তির নথিপত্র এবং খালাসের প্রশংসাপত্র হস্তান্তর করেছে। এর ফলে তিনি আর কোনো ধরনের ফৌজদারি শাস্তি, আইনি নজরদারি বা এ সংক্রান্ত কোনো শর্তের অধীনে নেই।

টেলিকম খাতের এই সফল উদ্যোক্তা তথা ধনকুবের রাজনীতিকের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের কম বাকি থাকায় গত ৩ জুন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদার জন্মদিন উপলক্ষে রাজক্ষমা পাওয়া যোগ্য বন্দিদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। থাইল্যান্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজা ও রানির জন্মদিনসহ প্রধান প্রধান রাজকীয় উৎসব উপলক্ষে নিয়মিতভাবে কারাগারে ভালো আচরণ করা বন্দিদের রাজকীয় বিশেষ ক্ষমা মঞ্জুর করা হয়। আধুনিক থাই রাজনীতিতে থাকসিন অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং তিনি দুই মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৬ সালে এক নাটকীয় সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাকসিন সিনাওয়াত্রার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনের অবসান ঘটেছিল। এরপর আইনি জটিলতা এড়াতে এক দশকেরও বেশি সময় তিনি দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে কাটান এবং দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালে তিনি পুনরায় থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন। থাই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার পর চলতি মাসেই থাকসিন সিনাওয়াত্রা ব্যক্তিগত সফরে দুবাই যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তাঁর এই আসন্ন সফরের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

একবিংশ শতাব্দীতে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম হলো থাকসিনের ‘ফেউ থাই পার্টি’ এবং এর পূর্বসূরি দলগুলো। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে এ পর্যন্ত মোট চারজন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং দেশটির গ্রামীণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ফেউ থাই পার্টি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করে রাজনৈতিকভাবে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, যা থাকসিন ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: এএফপি

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন