উত্তরবঙ্গের মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে স্বস্তিতেই

  13-06-2024 05:24PM

পিএনএস ডেস্ক: ঈদ যাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিরাজ করছে অনেকটাই স্বস্তি। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে চলাচল গতি কিছুটা কম। ফলে ঘরমুখো মানুষদের খানিকটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বুধবার (১২ জুন) থেকেই রাজধানী ঢাকার মানুষ নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ ফিরছেন ব্যক্তিগত যানবাহনে, কেউ ট্রেন-বাসে চেপে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ প্রশাসন ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মহাসড়কে আট শতাধিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে। এছাড়াও গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে চলাচলকারী যানবাহনগুলো যখন এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৩ কিলোমিটার দুই লেনের সড়কের প্রবেশ করে তখন যানবহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এতে করে ধীর গতিতে চলাচল করতে হয় যানবাহনগুলোকে। একটু এলোমেলো চলাচল ও যান্ত্রিক সমস্যা হলেই রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গসহ ২৩ জেলার ৯২টি সড়কের যানবাহন টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। ঈদের সময় এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আট-দশগুণ বেড়ে যায়। যার কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে এ ঈদ যাত্রায় মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। ইতোমধ্যেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় চার লেনসহ দুই পাশে ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য আরো দুটি সার্ভিস লেনের কাজ শেষে হয়েছে। এতে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন চার লেনের মহাসড়কের সুফলভোগ করছে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।

তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তাটি এখনও চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে ৭০কিমি এলাকার সুফল মিললেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি উত্তর বঙ্গের ২৩ জেলার যাত্রীদের। এই ১৩ কিলোমিটারে যাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেজন্য প্রশাসন উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলো ভুঞাপুর লিংক সড়ক দিয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে পাঠানো হচ্ছে। আর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলোর জন্য এই ১৩ কিলোমিটার সড়ক একমুখী করে দেয়া হয়েছে।

দূরপাল্লার বাস চালক রফিক মিয়া জানান, চন্দ্রা থেকে চার লেনের মহাসড়ক দিয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসার পর কিছুটা যানজটে পড়তে হয়। এই চাপটা বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা পযর্ন্ত থাকে।

বাস চালক আজাদ জানান, মহাসড়কে অনেকটা স্বস্তি নিয়েই চলাচলা করা যাচ্ছে। তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজটের আশংকা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩০ হাজার ৮৩৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ টাকা। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশে ১৫ হাজার ৭২০টি যানবাহন পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা। সিরাজগঞ্জে সেতুর পশ্চিম অংশে ১৫ হাজার ১১৪ টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, ঈদ সামনে রেখে যানবাহনের পারাপার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেতু পারাপারে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গাড়ির অতিরিক্ত চাপ ও ধীরগতি ছিল। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে চার লেনের কাজ ও সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এমন যানজট সৃষ্টি হয়। তবে দুপুরের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, এবার ঈদ যাত্রায় মানুষ যাতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পার তার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহনের স্বাভাবিক গতি থাকলেও এলেঙ্গা আসার পরই গাড়ির তুলনায় রাস্তা ছোট হওয়ায় গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়োতই সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর থেকে ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও মহাসড়কে কোন যানবাহন দুর্ঘটনা কবলিত হলেও যাতে তাৎক্ষণিক মহাসড়ক থেকে সরানো যায় তার জন্য র‌্যাকার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এসএস

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন