পিএনএস ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার অতীতে জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল দাবি করে সেগুলো অনতিবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির বর্তমান সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে অতীতে যাদের কাছ থেকে জোর-জবরদস্তি করে শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ ধারা অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক বিশেষ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধী দলীয় নেতা নিজেই এই নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন, যেখানে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শেয়ার কী এবং সেই শেয়ারগুলো কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, তা সারা দুনিয়ার মানুষ ভালো করেই জানে। অতীতে বিশেষ একটি গোষ্ঠী প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারকে তাদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করেছিল এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে নিজেদের হাতে নিয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে এই শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি সাধারণ ব্যাংক নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। তার মতে, ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি সততা, দক্ষতা ও গ্রাহকসেবার মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ ও সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, এই ব্যাংক এককভাবে দেশের মোট বৈদেশিক রেমিট্যান্সের প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত দেশে এনেছে এবং ডিপোজিট, তারল্য ও বিনিয়োগের দিক থেকে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতে অনন্য উচ্চতায় ছিল।
ব্যাংকটির সর্বজনীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এটা সকলের ব্যাংক। শুধু জামায়াতের মানুষের ব্যাংক নয়, বিএনপির বহু মানুষ আছেন, অন্য দলের মানুষ আছেন, অন্য ধর্মের মানুষ আছেন।’ তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপকে ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা এবং এ কাজে এস আলমকে তিনি নিজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই অবৈধ দখলের পর ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয়, যার ফলে এর আর্থিক ভিত্তি পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়ে।
সংসদে উত্থাপিত নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি এবং তখন খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। তবে পরবর্তীতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে এসে খেলাপি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায় এবং এর ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।০
পিএনএস/এএ
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘প্রকৃত মালিকদের’ ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান বিরোধী দলীয় নেতার
09-06-2026 11:35PM

