সরকারের উন্নয়ন বিএনপি সহ্য করতে পারছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  07-06-2024 07:48PM

পিএনএস ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের কোনো উন্নয়ন ও অগ্রগতি সহ্য করতে পারছে না বিএনপি। সেই কারণে তারা এখন নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুক্রবার (৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাঙালির মুক্তি সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাটোয়ারার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ যারা বিএনপি দল গঠন করেছিলেন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২ বছর ও একাধারে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের চার মেয়াদসহ ২২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা তাদের পক্ষে এখন আর সহ্য হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সংসদে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাজেটের অংক সাড়ে ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার বৃদ্ধি পাওয়া মানে সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভালো চলছে। দেশের বাজেটের আকার যখন বৃদ্ধি পায় তখন বুঝতে হবে দেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত বাজেট ঘোষণার আগেই বিবৃতি রেডি করে রাখে। গত ১৫ বছরের তাদের বিবৃতি-বক্তব্য যদি দেখেন তখন হুবহু মিল খুঁজে পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফাই ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ভিত্তি। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকীর দু’দিন আগে ১২ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস অর্থহীন। কেননা পাকিস্তান নামক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোয় কখনো বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পরিপূর্ণ মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে, তখন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড মনি সিংহেকে লেখা এক চিঠিতে বলেছিলেন, আমি স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আপনারা আমার সঙ্গে থাকবেন কি-না বলুন। বঙ্গবন্ধু এ-ও জানতেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কে তার পাশে থাকবেন বা থাকবেন না এটা বড় কথা নয়। তাকে কাঙ্খিত স্বাধীনতার জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রথম প্রস্তুতি লড়াই ছিল ঐতিহাসিক ৬ দফার ঘোষণা।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে একজন সম্মুখ কান্ডারী হলেও দেশ বিভাগের পূর্বেই বুঝে গিয়েছিলেন, বাঙালির দাসত্বের শৃঙ্খল ঘুচবে না। সেদিন এই অমোঘ সত্যটি তখনকার সময়ে অনেক সিনিয়র নেতা না বুঝলেও তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন। বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য তাকে একাই হাল ধরতে হবে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। তিনি এই ঘোষণার মাধ্যমে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করলেও বাঙালিকে একটি জনযুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ওই সময় পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই মর্মে রিপোর্ট করেছিল যে, শেখ মুজিব সুকৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা করলেও আমাদের করার কিছুই ছিল না। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। তাই, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করার পরও তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে অপবাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ তিনি দেননি। তাই, মহান মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্ব বিচ্ছিন্নতাবাদী অপচেষ্টা বলে অভিহিত করতে পারেননি। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী রাজনৈতিক কৌশলের সার্থকতা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বের ২৭টি দেশকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৩৩তম অর্থনীতির দেশ, ১৫ বছর আগে ছিল পৃথিবীর ৬০তম অর্থনীতির দেশ। এই ২৭ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরও আছে। জিডিপির আকারে আমরা তাদেরকেও অতিক্রম করেছি। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও চিন্তা এবং কঠোর পরিশ্রমের কারণেই এগুলো সম্ভবপর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন ২০১৪ ও ১৮ সালে সংকট তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালেও সংকট তৈরির অপচেষ্টা ছিল। কিন্তু সমস্ত সংকট ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে আওয়ামী লীগ আজকে পরপর চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল।

এসএস

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন