ফেডারেশন কাপ জিতে 'ট্রেবলের' আনন্দ বসুন্ধরা কিংসের

  22-05-2024 09:00PM

পিএনএস ডেস্ক: অবশেষে এক মৌসুমে তিন শিরোপার পূর্ণতার ছোঁয়া পেল বসুন্ধরা কিংস। রোমাঞ্চকর ফাইনালে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে অস্কার ব্রুজোনের দল। উত্তেজনায় ঠাঁসা, নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল মোহামেডান। কিন্তু কিংস যে সহজে হাল ছাড়ে তার প্রমাণ রাখল আরেকবার।

হাজার হাজার কিংস সমর্থকদের প্রাণ ফিরিয়ে শেষ দিকে গোল করে ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও বাজিমাত করে কিংস মাতে ঘরোয়া 'ট্রেবল' জয়ের আনন্দে। পেশাদার যুগে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জয়ের কীর্তি কিংসের। ম্যাচটা যে ফাইনাল সেই আমেজ পাওয়া গেল শুরু থেকেই।

বুধবার ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে ব্যক্তিগত ঝলক দেখানোর চেষ্টায় থাকেন রবসন রোবিনহো কিংবা মুজাফফর মুফাররভরা। তবে শুরুর ২৫ মিনিটে কোনো দলই পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কিংস। ২৭ মিনিটে ভালো সুযোগ আসে দরিয়েলতনের সামনে কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন হোসেন দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

রাকিবের বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে শটও নেন দরিয়েলতন কিন্তু তা আটকে দেন সুজন। ৩৭ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করেন সোহেল রানা জুনিয়র। রাকিবের কাটব্যাক বক্সের ওপর থেকে পোস্টে রাখতে পারতেন কিন্তু ফাঁকায় পেয়েও ঠিকঠাক শটই নিতে পারেননি এই মিডফিল্ডার। রক্ষণে মনোযোগ দেওয়া মোহামেডান খেলার ৪১ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায়। দিয়াবাতের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে পড়া এমানুয়েল সানডের শট তপু বর্মণের গায়ে লেগে দিক বদলে বাইরে চলে যায়।

দুই মিনিট পরই আরেকবার কিংসের রক্ষণ কাঁপায় সাদা-কালোরা। বাম প্রান্ত থেকে আরিফের ক্রস অন্য প্রান্তে দিয়াবাতে ভলি করেছিলেন কিন্তু মেহেদি হাসান তা গ্লাভসে নিয়ে নেন। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখার পর স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারছিলেন না বিশ্বনাথ ঘোষ। যেকারণে মধ্যবিরতির পর তাকে আর মাঠে নামাননি কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন। তার পরিবর্তে বদলি নামেন জাহিদ হোসেন। এই অর্ধের শুরুতেও সুযোগ আসে কিংসের সামনে। তপুর লম্বা ক্রস বক্সে পেয়ে ভলি করেছিলেন দরিয়েলতন কিন্তু তার ভলি একটু সামনেই ড্রপ খেয়ে বাইরে চলে যায়।

সুযোগ বুঝে কিংসের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে মোহামেডানও। দলটির সেরা ফরোয়ার্ড সোলেমান দিয়াবাতেকে অবশ্য কড়া পাহারায় রাখে কিংসের রক্ষণভাগ। তাতে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। ৫৮ মিনিটে বদলি নেমে পর পর দুটি আক্রমণে কিংসের রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দেন মোহামেডানের শাহরিয়ার ইমন। প্রথম দফায় বক্সে বল পেয়েও শট নিতে দেরি করায় তা কাজে লাগাতে পারেননি। পরের মিনিটে বক্সের উপরে বল পেয়ে যান ইমরন, তার সামনে কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে গোলের জন্য শট নিলেও মেহেদি হাসান ফিরিয়ে দেন। টানা দুই আক্রমণে মোহামেডান গ্যালারিতে রোমাঞ্চ ছড়াতে থাকে। দলটির খেলোয়াড়রাও তাতে আরও উদ্যমী হয়ে ওঠেন। মিনহাজুরের কর্নারে দিয়াবাতের হেড ফিরিয়ে দেন মেহেদি। তবে ৬৩ মিনিটে আর আটকাতে পারেননি মেহেদি। দূরপাল্লার শটে মোহামেডানকে এগিয়ে নেন এমানুয়েল সানডে। শাহরিয়ারের ইমনের কাছ থেকে বল পেয়ে খানিকটা সামনে এগিয়ে জায়গা তৈরি করে এই নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডারের শট জড়িয়ে যায় জালে। সঙ্গে সঙ্গে কেপে ওঠে মোহামেডানের গ্যালারি।

এরপরই এক সঙ্গে তিন পরিবর্তন আনেন ব্রুজোন। দুই সোহেল রানা ও রিমনকে তুলে মাঠে নামান শেখ মোরসালিন, মাসুক মিয়া জনি ও ইয়াসিন আরাফাতকে। তাতে আক্রমনে ধার বাড়ে কিংসের। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালানো কিংসের হতাশা বাড়ে রোবিনহোর দুরপাল্লার শট সাইড বারে লেগে ফিরলে। ফিরতি বলে প্রতিআক্রমণে যায় মোহামডান। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া দিয়াবাতের শট পা বাড়িয়ে ফিরিয়েছেন মেহেদি হাসান।

শেষ দিকে এসে সেরা ছন্দ মেলে ধরেন রোবিনহো। সাদা-কালোদের বক্সে হুমকি হয়ে উঠে সু্যোগ তৈরি করলেও কাঙ্খিত লক্ষের দেখা পাননি। ৮৬ মিনিটে কিংসকে আর হতাশ হতে হয়নি। হতে দেননি মিগেল ফিগেইরা। মধ্যমাঠে বল পেয়ে সাদা-কালোদের এক এক করে সাত ফুটবলারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাম পায়ের নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। তাতে হাজার হাজার কিংস সমর্থকদের মাঝে প্রাণ ফিরিয়ে ম্যাচ নিয়ে যান অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই রয়ে সয়ে খেলতে থাকে। ১০৪ মিনিটে রোবিনহোর দুরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান সুজন। মিগেলের নেওয়া ওই কর্নারেই এগিয়ে যাওয়া গোল পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। কর্নারে উড়ে আসা বল মোহামেডান গোলরক্ষক লাফিয়ে গ্লাভসে নিতে না পারায় বল আলগা হলে তা নিখুঁত শটে জালে জড়ান জাহিদ হোসেন। কিন্তু গোল বাতিল চেয়ে রেফারিকে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ জানাতে থাকে মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। যদিও তাদের দাবি কি ছিল তা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু মোহামেডান তাদের প্রতিবাদ জানাতেই থাকে, একপর্যায়ে মাঠে না নামার সিদ্ধান্তও নেয়। সেই সঙ্গে সাদা-কালো সমর্থকরা উত্তেজনা ছড়িয়ে মাঠে বোতল ছুঁড়তে থাকে, যা গিয়ে পড়ে কিংসের ডাগআউটে। তবে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠে ফেরে সাদা-কালোরা।

অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে হন্যে হয়ে গোলের খোঁজ চালায় আলফাজ আহমেদের দল। ১১৯ মিনিটে অল্পের জন্য গোল পায়নি সাদা-কালোরা। বক্সের ভেতর থেকে শাহরিয়ার ইমনের প্রচেষ্টা দূরের পোস্ট ঘেষে বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটেই মুজাফফরভের দুরপাল্লার শট ক্রসবারে ঘেষে বাইরে গেলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি মোহামেডানের। তাতে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হতাশায় ডুবিয়ে আরেকটি শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয় বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলারারা।

এসএস

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন