অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ বাংলাদেশের

  09-06-2026 10:39AM


পিএনএস ডেস্ক: এই সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা কি অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে? ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কে সংবাদ সম্মেলনে ঠিক এই প্রশ্নটা ছোড়া হয়! কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগে কোনো অজি অধিনায়ক এমন প্রশ্ন শুনলে হয়তো আকাশ থেকেই পড়তেন।

সময় বদলেছে, বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, দলটাও দুর্দান্ত হয়ে উঠছে। উল্টোদিকে অস্ট্রেলিয়া পার করছে ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ড, এই সিরিজে নেই নিয়মিত একাদশের একাধিক তারকা। সবশেষ টানা ৪ সিরিজ জেতা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া

আজ মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় শুরু হবে দুই দলের তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। ঘরের মাঠে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, অন্যদিকে বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকাকে ছাড়াই নতুন সমন্বয়ে লড়াইয়ে নামছে অস্ট্রেলিয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তারা। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যই থাকবে স্বাগতিকদের। আগের ২২ দেখায় অজিদের বিপক্ষে মাত্র ১ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, সেটাও ২১ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। এবার মিরাজের দলের সামনে পরিসংখ্যান বদলানোর সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।

সুযোগটা কাজে লাগাতে চান মিরাজও, ‘অবশ্যই আমরা সবাই অনেক রোমাঞ্চিত। দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। অধিনায়ক হিসেবে আমিও বেশ উচ্ছ্বসিত। আমার মনে হয়, আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমরা যদি শুরুটা ভালো করতে পারি, তাহলে সেটা দলের জন্য ইতিবাচক হবে। আমরা নিজেদের জায়গা থেকে সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। দল নিয়ে আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী, কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা ভালো ছন্দে আছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এত বছর পর সিরিজ খেলাটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। তার ওপর ম্যাচগুলো হচ্ছে নিজেদের মাঠে। আমরা যদি ঘরের মাঠের সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে সেটা দলের জন্য খুবই ভালো হবে।’

অন্যদিকে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া এসেছে কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ এখনও চোটের কারণে বাইরে, আর ট্রাভিস হেডকে পুরো সফরের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে তুলনামূলক তরুণ ও অনভিজ্ঞ কয়েকজন ক্রিকেটারের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের।

তবে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। দলের অনেক ক্রিকেটার গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন বলেই মনে করছেন তারা।

অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস ইংলিশ বলছেন, ‘মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের মতো দুজন ক্রিকেটারকে দল থেকে হারালে অবশ্যই কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়। তারা দুজনই অসাধারণ মানের খেলোয়াড়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা এই সফরে নেই। তবে পাকিস্তান সিরিজেও যেমন দেখেছি, তরুণ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামনেই বিশ্বকাপ রয়েছে। তাই তার আগে ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন এবং নতুন কিছু ক্রিকেটারকে যাচাই করার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

মিরপুরের উইকেট নিয়েও রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এক সময় এই মাঠকে পুরোপুরি স্পিন-সহায়ক ধরা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে চিত্র কিছুটা বদলেছে। চলতি বছরে মিরপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ানডেগুলোতে স্পিনারদের চেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন পেসাররা। ফলে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে।বিশেষ করে নাহিদ রানার দিকে নজর থাকবে অস্ট্রেলিয়ার।

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজেকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই গতিতারকা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় প্রশ্ন মার্নাস লাবুশেনকে ঘিরে। পাকিস্তান সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন তিনি। সবশেষ ১৩ ওয়ানডে ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান মাত্র ৪৭। ফলে মিরপুরে নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াইটাও গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে এই ব্যাটারের জন্য।

বাংলাদেশ দলে প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই তার ফেরার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ

তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।

সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়া একাদশ

ম্যাট শর্ট, জশ ইংলিস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথিউ রেনশ, অলি পিক, জেভিয়ার বার্টলেট, ম্যাথিউ কুনেম্যান, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন