মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না ইরানের সমর্থকরা

  10-06-2026 01:08AM

পিএনএস ডেস্ক: রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঠ পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেও আছড়ে পড়ল বৈরিতার আঁচ। বিশ্বমঞ্চে বল গড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরান।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দলটির গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ইরানি সমর্থকদের যে টিকেট বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ। সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ গ্রুপে থাকা ইরান আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ড এবং ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে, যার দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ গ্যালারির মোট টিকেটের ৮ শতাংশ কোটা পেয়ে থাকে। ইরান সেই টিকেট বিক্রিও শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় সিদ্ধান্তে দলটির হাজার হাজার সমর্থক, যারা ইতিমধ্যেই ভ্রমণের সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

এই সিদ্ধান্তের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেছে ‘আইনগত ও অফিসিয়াল কোটা থেকে ইরানি সমর্থকদের বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চেতনা এবং সমানাধিকারের পরিপন্থী।

এই ঘটনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে অ-খেলোয়াড়ি আচরণ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’

একই সঙ্গে সংস্থাটি ফিফাকে তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও ‘ফেয়ার-প্লে’ নীতি বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার অজুহাতে শুরু থেকেই ইরান দলের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল নানামুখী সংকটে ঘেরা।

যার শুরুটা হয় গত ২৫ মে, যখন তারা তাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প আমেরিকার অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ইরানের দাবি, মার্কিন প্রশাসন তাদের আতিথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ভিসার কঠোর শর্তে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইরান দল।

তারা আমেরিকায় অবস্থান করার অনুমতি পায়নি; ফলে প্রতিটি ম্যাচের দিন তারা ফ্লাইটে মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করবে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার দেশ ছাড়তে হবে।

এর ওপর গত ৬ জুন ইরান অভিযোগ করে, তাদের কোচিং ও সাপোর্টিং স্টাফের ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছে আমেরিকা।

এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ফিফার কাছে ১০টি শর্ত দিয়েছিল তেহরান। যার অন্যতম ছিল ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) সামরিক দায়িত্ব পালন করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেওয়া।

কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ ইরানি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হলেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠবে না।

দুই পক্ষের এই বৈরিতার শুরু অবশ্য আরও আগে। গত এপ্রিলে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে অংশ নিতে যাওয়া ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজসহ পুরো প্রতিনিধি দলকে কানাডিয়ান সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়।

ফলে ইরানই ছিল একমাত্র দেশ, যারা ওই গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসে অংশ নিতে পারেনি। টিকেট বাতিলের এই সর্বশেষ ঘটনা যেন সেই পুরোনো আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল। মাঠের ফুটবলের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিই এখন বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের জন্য।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন