ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন একই পরিবারের ৩ জন

  02-12-2023 03:35PM




পিএনএস ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী- হরিপুর) ও রাণীসংকেল উপজেলার ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়নের আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলামের এমপির ছেলে, ভাতিজা ও ভাগ্নী তিন ভাই-বোনসহ মোট ৭ জন।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ঠাকুরগাঁও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: মাহাবুবর রহমানের কাছে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জাতীয় সংসদের এ আসনের সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম এমপির বড় ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম সুজন দলীয় মনোনিত নৌকা প্রতীক প্রার্থী, তার ভাতিজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলীর ছেলে উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আসলাম জুয়েল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলে সে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম এমপির ভাগ্নী ও জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুন নাহার বেগম দলীয় মনোনিত (লাঙ্গল) প্রতীকের মনোনয়নপত্র জমা করেন।

আরো বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেস রিম্পা আক্তার (ডাব) প্রতীক প্রার্থী, জাকের পার্টির নুর আলম সিদ্দিক (গোলাপ ফুল) প্রতীকের প্রার্থী, তৃণমূল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী মোজাফফর হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আব্দুল কাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম এমপির পরিবারের তিন ভাই-বোন। একই পরিবারের তিনজন প্রার্থী একই সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন দলের মনোনিত এবং আরো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট সাতজনের মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও মানুষের মুখরোচক আলোচনায় তিন ভাই বোনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সংসদ আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলামের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘গণতন্ত্রে সবার রাজনীতি করার ও সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। তাছাড়া এ বছর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বিষয়টা ওপেন করে দিয়েছেন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। চাইলে যে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারবে। তাই আমার ভাতিজা প্রার্থী হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতি তো পরিবার কেন্দ্রিক হয় না, রাজনীতি হয় আদর্শিক। যোগ্যতা থাকলে এক পরিবার থেকে দু’তিনজন প্রার্থী হতেই পারে। সেক্ষেত্রে জনগণ বিচার করবে কাকে ভোট দিলে, কাকে নির্বাচিত করলে ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী -হরিপুর) আসনের উন্নয়ন হবে।’

দবিরুল ইসলাম আরো জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে একাধারে সাতবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে নির্বাচিত করে। এবার আমার স্বপ্ন আমার বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম সুজনকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই। আমরা অনেকই দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও এবার আওয়ামী লীগের জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আমার বড় ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম সুজনকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই দলীয় হাই কমান্ডের দিক নির্দেশনা আমাদের সকলকে মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরে নৌকা প্রতীক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে হবে এবং তাকে জয়যুক্ত করতে সকলকে আহ্বান করি।’

আর যারা দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি নির্বাচনী এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করেন। তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মেঝো ছেলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলাম জুয়েল উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এই আসনে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে নিজের আলাদা একটি বলয় তৈরি করেন এবং তার ফুপাতো বোন ও বড় শালিকা জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুরুন নাহার বেগমও রাজনীতির মাঠে আলাদা সক্রিয় ছিলেন। বিগত দিনগুলোতে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

তিন ভাই-বোনের আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পর এবার মনোনয়ন কেনার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে মুখরোচক আলোচনাও সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন সারা দেশের মতো সকাল ১০টা থেকে মনোয়ন ফরম জমা নেয়া শুরু করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম এমপি তার বড় ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সুজনের নৌকা প্রতীক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে, তার ভাই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলী আসলাম জুয়েলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফুপাতো বোন ও বড় শালিকা নুরুন নেহার বেগম জাতীয় পাটির প্রার্থী এবং আরো চারজন প্রার্থীসহ মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো: মাহবুবুর রহমান জানান, ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে দ্বাদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।


পিএনএস/আনোয়ার


@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন