‘কত ঈদ আসে-যায়, শুধু পথ চেয়ে থাকি’ এক নিঃসঙ্গ বাবার আকুতি

  17-06-2024 03:52PM




পিএনএস ডেস্ক: ‘কত ঈদ আসে-যায়, শুধু পথ চেয়ে থাকি, কেউ বুঝি আসছে আমার খোঁজ নিতে! পরক্ষণে ভাবি আমার তো পরিবার, আত্মীয়-স্বজন বলতে কেউ নেই, মনের কথা কারে কই! ঈদের যে আনন্দ, যে উল্লাস কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া সেটা আর নেই। বোবায় যেমন স্বপ্ন দেখে, মনের কথা মনে রাখে। আমাগও তাই বাজান।’

কথাগুলো বলছিলেন ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত ‘শান্তি নিবাস’ নামক বৃদ্ধাশ্রমে থাকা শেখ জলিল। বয়স সত্তোরোর্ধ তার। গত দুই বছর আগে এই বৃদ্ধাশ্রমে তার মাথা গুঁজার ঠাঁই হয়।

একসময় ফরিদপুর শহরের ভাজনডাঙ্গা এলাকার একটি ছনের ঘরে বসবাস করতেন তিনি। বাবা শেখ জয়নুদ্দিন আর মাতা বরু খাতুনকে কবে হারিয়েছেন মনে নেই এই বৃদ্ধ জলিলের। স্ত্রী সাহেদা খাতুনকে নিয়ে একসময় সংসার পেতে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন জীবনের বাকি সময়। কোলজুড়ে সোনাই নামে একটি মেয়েও এসেছিল এই পৃথিবীতে। তবে ৯ বছর বয়সে ডায়রিয়া মেয়েটাকে কেড়ে নেয়। এরপর অভিমান আর ঝগড়ায় স্ত্রী ছেড়ে চলে যায় জলিলকে। পরে ২০২৩ সালে তার স্ত্রীও পাড়ি জমান পরপারে।

বৃদ্ধ শেখ জলিল বলেন, ‘বাপ-মা মারা গেছে, বউ-বাচ্চা মারা গেছে। পৃথিবীতে কেউ নেই আমার। ঈদ যখন আসে এই বৃদ্ধাশ্রমে নাস্তা খেয়ে শুয়ে থাকি। জামাকাপড় দেয় তবে কারে পড়ে দ্যাহাবো, আপনজন নাই কার বাসায় যাবো? বাজান, কেমনে বুঝাবো যে কত কষ্ট লাগে, বুকটা খাঁ খাঁ করে।’

এ বিষয়ে শান্তি নিবাসের (বৃদ্ধাশ্রম) উপ-তত্ত্বাবায়ক তাহসিনা জামান বলেন, ‘এখানে যারা থাকে তাদের ভালো রাখার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। ঈদ উপলক্ষে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় ও ঈদের দিন মাংস, পোলাও, সেমাইসহ সব ধরনের খাবার সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যে যে ধরনের পোশাক পরে তাদের জন্য সেই ধরনের পোশাকই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে আমাদের কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জনবল বাড়ানোর জন্য আমরা ঊর্ধ্বতনদের নিকট চাহিদা জানিয়েছি। আশা করি এ সংকট বেশি দিন থাকবে না।’


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন