বৃষ্টিতে সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম তুলনামূলক হারে বেড়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়া দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার,কাপ্তান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের কাঁচাবাজারে দাম বেড়েছে বেশ কয়েকটি পণ্যের। গত সপ্তাহের ৪০ টাকা কেজি দরের চিচিঙ্গা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।গত সপ্তাহের ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। ৪০ টাকা কেজি দরের করলা দ্বিগুণ দরে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওরান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. মিন্টু বলেন, দেশের ১৭টি এলাকায় বন্যা আগে থেকেই।এছাড়া গত এক মাসের টানা বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেতখামার পানিতে তলিয়ে গেছে। মালের জোগান কম রয়েছে। আমরা বাড়তি দামে কিনে কমে কীভাবে বিক্রি করবো?

এ সপ্তাহে বাজারে পটল প্রতি কেজি ৪০ টাকা,পেঁপে ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা,আলু ২০ টাকা,সিম ১৬০ টাকা,কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

লেবু এক হালি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাষের মাছসহ দেশি প্রজাতির নদীর মাছের দাম ও বর্ষার মৌসুমের মাছের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। তবে ইলিশ সরবরাহ কম রয়েছে এমনটাই দাবি মাছ বিক্রেতাদের। তাদের দাবি, কয়েকদিন আগেও বাজারে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যেতো। এখন বাজারে কোনো ইলিশ মাছ নেই। তবে অন্য মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৭০ থেকে ৪০০, মলা ৪০০,পাবদা ৫০০-৬০০ ও চাষের শিং ৪০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি মাগুর ৬৫০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৫০০-৫৫০ ও পাঙ্গাশ ১২০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নতুন বাজারে আসা সবজির মধ্যে সাইজ ভেদে প্রতিটি কচু ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৭০-৮০, জালি কুমড়া ৫০-৬০, ফুলকপি (ছোট) ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন রকমের শাকের দাম কম রয়েছে। পুঁইশাক প্রতি কেজি ৩০ টাকা,পালংশাক ৩০ টাকা,মুলাশাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুশাক ১০ টাকা,ডাটাশাক ১৫ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সাইজ, বাজার ও পণ্যের মানভেদে এসবের দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পার্থক্য লক্ষ করা গেছে।

কাওরান বাজার কাঁচাবাজারের এক ক্রেতা মীর কাইজম রেজা বলেন, ঈদ আর বৃষ্টির মতো কোনো ইস্যু তৈরি হলেই নানা অজুহাতে বাজারে সবজি আর তরকারির দাম বাড়ে। দাম বাড়ার পেছনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে কিনা, তা মনিটর করা দরকার। তবে সব ক্ষেত্রেই আমরা (ভোক্তারা) নিরুপায়।

তিনি বলেন, প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৬০, পাকিস্তানি মুরগি ৩০০, দেশি মুরগি প্রতিটি আকার ভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা আর কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech