চাল-আলু-তেল, কিছুই মিলছে না নির্ধারিত দামে!

  

পিএনএস ডেস্ক: সিন্ডিকেটের কারসাজিতে আগুন লেগেছে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে। তদারকির অভাবে সিন্ডিকেট সদস্যরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর ভোক্তার পকেট কাটছে দেদারসে। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কেটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে এসব চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যদিও তারা বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

পেঁয়াজে দামে আগুন লাগার পর চক্রটি চাল, আলু ও ভোজ্যতেল নিয়েও কারসাজি শুরু করেছে। হু-হু করে বেড়েছে দাম। তবে এ তিন পণ্যের দাম কমাতে সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তা বাজারে কার্যকর হয়নি। ব্যবসায়ীরা এখনো বেশি দামেই বিক্রি করছেন পণ্যগুলো। ফলে দামের উত্তাপে নাকাল ভোক্তা।

এর মধ্যেই আলুর বাজার স্থিতিশীল করতে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। কোনো মজুদদারের কাছে দ্বিগুণ আলু মজুদ থাকলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমাগারে রাখা আলুর মজুদের তথ্য চেয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। চিঠি পাওয়ার দুইদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলায় কী পরিমাণ আলু মজুদ আছে, সেই তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে মিল পর্যায়ে চালের দর নির্ধারণ করলেও ১ মাস ধরে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কারসাজি রোধে দু’দফায় আলুর দাম নির্ধারণ করার পরও সংশ্লিষ্টরা কার্যকর করতে পারেননি। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম সরকার ৩৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে প্রতি কেজি আলু কিনতে ভোক্তাকে ১৫ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এছাড়া ২২ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর মিল পর্যায়ে সরকার ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দিলেও তা কার্যকর হয়নি। এতে পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব না পড়ায়, খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১০০ টাকায় ঠেকেছে।

দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরুর প্রথম থেকেই মিলাররা কারসাজি করে সব ধরনের চালের দাম বাড়াতে থাকে। মাঝে কিছুটা কমলেও ২ মাস আগে আবারও বাড়তে থাকে দাম। তবে মিলারদের কারসাজি রোধে এবং দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ২৯ সেপ্টেম্বর চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বৈঠক করেন।

সেখানে সবচেয়ে ভালো মানের ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম (মিলগেট) ২ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি মানের মধ্যে বিআর-২৮ চালের দাম ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন। কিন্তু মাস খানেক ধরে এ বেঁধে দেয়া দাম মিল পর্যায় থেকে মানা হচ্ছে না।

বুধবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিলগেটে প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, মিলগেটে প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল মাসের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা বেশি দরে। এছাড়া মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, যা ১ মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। মাসের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা চাল ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ১৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও অসাধুদের কারসাজিতে হঠাৎ করেই অস্থির হয় আলুর বাজার। এ সময় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। দাম নিয়ন্ত্রণে প্রথম দফায় ৭ সেপ্টেম্বর হিমাগার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দেয় সরকার।

যদিও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরে হিমাগার মালিক ও ব্যসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দাম পুনর্নির্ধারণ করে দেয় কৃষি বিপণন অধিদফতর। সেক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা, কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৭ টাকা এবং পাইকারিতে ৩০ টাকা কেজি বেঁধে দেয়া হয়।

কিন্তু বুধবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হয়েছে ৩৩-৩৬ টাকা।

অন্যদিকে সরকার মিল পর্যায়ে খোলা সয়াবিনের দাম ৯০ টাকা ও পাম অয়েলের দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করলেও তা কার্যকর হয়নি। মিল মালিকরা জানান, দাম কমবে লিটারে নাকি কেজিতে, তা নিয়ে একটি দোটানায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ সমস্যা সমাধান হলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করবে।

বুধবার মিলগেটে প্রতি লিটার সয়াবিন ৯২-৯৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা। এদিন রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, যা ১ মাস আগেও ছিল ৯০ টাকা। প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা। ১ মাস আগে ছিল ৮০-৮৫ টাকা। ২ মাস আগে এ দু’ধরনের তেলের খুচরা মূল্য আরও ৫-৬ টাকা কম ছিল।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন