ট্রাম্পকে ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমরা

  

পিএনএস ডেস্ক : শরতের রাতে নিউইয়র্কের নীল আকাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখালেও এখনো মসজিদ-আল-আমানে শোকের মেঘ জমে আছে। ব্রুকলিনের ওজোন পার্কে গত আগস্টে ওই মসজিদের একজন বাংলদেশি ইমাম ও তার সহকারীকে হত্যার শোক এখনো কাটিয়ে ওঠতে পারেনি সেখানকার বাংলাদেশি অভিবাসীরা।

গুলিবর্ষণের ওই ঘটনা ব্যাপক বিরোধী মুসলিম অনুভূতির একটি ক্রমবর্ধমান জোয়ারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে; যা আমেরিকার এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদের বাইরের চারপাশে যেখানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য টেবিল রাখা হয়েছে সেখানে মুসলমানরা জড়ো হয়। অতীতের যেকোনো মার্কিন নির্বাচনের চেয়ে অধিক সংখ্যক মুসলমান ভোটার নিবন্ধনের জন্য তারা কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আয়োজকরা বলছেন, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় ঠেকাতে তারা মুসলিম নাগরিকদের আরো বেশি সহযোগিতা কামনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন ঠেকাতে প্রদক্ষেপ নিবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গোলাম উদ্দিন (৪৬) যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান। তিনি গত ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ৮ নভেম্বর প্রথমবারের ভোট তিনি ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার পছন্দ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প একজন বর্ণবাদী লোক। তিনি মুসলমানদের পছন্দ করে না। তিনি ল্যাটিনসহ অভিবাসী বিরোধী। এজন্য হিলারি ছাড়া অন্য কিছুই আমাদের মাথায় নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিম রয়েছে। এসব মুসলিমদের ভোট কেবল হিলারিই পাবেন। ডেমোক্র্যাটরা সবসময় আমাদের অভিবাসীদের সঙ্গে আছে।’
আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের মতে, এই নির্বাচনে সেখানকার মুসলমানরা খুবই সিরিয়াস। ৮৬ শতাংশ নিবন্ধিত মুসলমান ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যা হিলারির ৭২ শতাংশের বিপরীতে টাম্পের মাত্র ৪ শতাংশ।

আল জাজিরার অনুসন্ধানে ওজোন পার্কে ট্রাম্পের কোনো সমর্থককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতি বাংলাদেশি এক ইমাম ও তার সহযোগীসহ এক নারীকে দুবৃত্তরা হত্যা করে। তাদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ডে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ব্যাপকভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে।

মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের এমন দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে মসজিদ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে চোখে পড়ছে। ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে। অতীতের নির্বাচনে চেয়ে এক মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান ভোটার তালিকাভুক্ত করার প্রতিজ্ঞা করেছে তারা।

ব্রকলিনের মসজিদ-আল-আমানে জুমার নামাজের পূর্ব মুহূর্ত পাবলিক একশন কমিটি নামে একটি সংগঠন আনুমানিক ৩.৭ মিলিয়ন আরব আমেরিকান ভোটার নিবন্ধনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। সংগঠনটি খ্রিস্টান, মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয়গোষ্ঠীর লোকদের সমন্বয়ে গঠিত।

যদিও আরব কিংবা মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারিতে তেমন কোন ফ্যাক্টর নয়। কিন্তু পিউ রিসার্চ সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা হিসেবে চলতি বছর ৩.৩ মিলিয়ন মুসলমানদের গণনা করেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাবলিক একশন কমিটির জরিপ অনুযায়ী, কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকসহ, দক্ষিণ এশীয়, মধ্য প্রাচ্যের এবং ইসলামে ধর্মান্তরিতরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সংগঠনটির পরিচালক মায়া বেরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘যদিও আমাদের জনসংখ্যা এত বেশি নয়। আমরা কয়েকটি রাজ্যকে টার্গেট করেছি যেখানে মুসলমানরা বেশি। আরব আমেরিকানদের মিলিত চেষ্টায় ভাল ফল আসবে আশা করি।’

‘এই মুহূর্তে এসব রাজ্যে জয়লাভ ছাড়া ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে যাওয়ার ভিন্ন কোন পথ নেই।’ তিনি বলেন।

যদিও জনপ্রিয় ভোট দ্বারা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নির্বাচিত হন না। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক রাজ্যের গুরুত্ব রয়েছে। এরকম কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক রাজ্য হচ্ছে ফ্লোরিডা, ওহাইও, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও ভার্জিনিয়া; যেখানে মুসলিম এবং আরব আমেরিকানরা ট্রাম্পকে ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ।

আমিন সাত্তার
আমিন সাত্তার (২০) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তিনি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। চার বছর আগে বিশ্বের সেরা দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আগামী মাসে প্রথমবারের জন্য ভোট দিতে যাবেন তিনি।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প একজন মানসিক রোগী কিন্তু ক্লিনটনও একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার চোখ-কান এখনো খোলা আছে। ৮ নভেম্বর আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
-আলজাজিরা

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech