মুসলিম জাহানে মানবাধিকারের বারোটা বাজাচ্ছে বিশ্বমোড়লরা

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে নৈতিক সুযোগ নিচ্ছে। এই সুবাদে মুসলমানদের নাজেহাল করছে। কথিত জঙ্গি অপবাদ দিচ্ছে। আর নিজেদের মদদে সৃষ্ট অপরাধীরা আজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বেশামাল আচরণ করছে।আর এর খেসারত দিচ্ছে অসহায় নিরপরাধ মুসলমানরা।

বেছে বেশে মুসলিম প্রধান দেশগুলোকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে তারা আজ একধরনের সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে। জঙ্গি নিধনের নামে মুসলিম দেশগুলোয় অবাধে লঙ্কাকাণ্ড চালানোয় মরিয়া যেন তারা। এতে সাধারণ মুসলমানরা মারা পড়ছে।মারা পড়ছে সাধারণ মানুষ। ধ্বংস হচ্ছে স্থাপনা ও মূল্যবান সামগ্রী।

যারা এককালে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে লাদেনদের সৃষ্টি করেছিল, আজকে বন্দুকের নল ঘুরে যাওয়ায় স্রষ্টারাই লাদেনদের হত্যায় মরিয়া। সৃষ্টিসুখের উল্লাসের বদলে তারা এখন আতঙ্কে থাকছে। সে আতঙ্ককে সম্বল করে তারা মুসলিম জাহানে নৈরাজ্য চালানোর মওকা পেয়েছে বটে।অপরাধের বদলে তারা আরো বড় অপরাধ সংঘটনে এমনকি মুসলমানদের সাবাড় করার কাজে লিপ্ত যেন।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।সে মানুষের বড় একটা অংশ শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী। যারা কারো কোনো ধরনের ক্ষতি না করে এমনকি অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো প্রকার আঘাত করে না। এককথায় অন্যের ধর্মীয় অধিকারে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করে নিজের ধর্মকর্ম করে মুসলমানরা।মুসলমানদের মূল কাজ ধর্ম-কর্ম। এর বাইরে তাদের ধর্ম কোনো প্রকার সন্ত্রাস-নৈরাজ্য অনুমোদন করে না।

হাল আমলে কোনো মুসলমান দেশ ধর্মের কারণে কোনো অমুসলিম দেশে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা ঘটায়নি। একেবারেই আত্মনিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় যারা নিয়োজিত।অথচ এসব মুসলিম প্রধান দেশে নানাভাবে হামলে পড়ছে অমুসলিম দেশগুলো। বিশেষ করে হাল আমলের বিশ্বমোড়লরা।অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। পশু-পাখির জীবন রক্ষায় যারা এগিয়ে, মুসলমানদের হত্যাকাণ্ডে তাদের অবস্থান সর্বাগ্রে!
আশঙ্কাজনক সব কাজ করে পার পেয়ে যাচ্ছে অস্ত্র, অর্থ বলে বলিয়ান শক্তিধর দেশগুলো। মুসলমানদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অনৈক্য সৃষ্টি করে তারা ইচ্ছেমতো আরাধ্য কাজ সারছে। ইচ্ছে থাকলেও সেসব ধ্বংসাত্মক, অমানবিক, মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত কাজের প্রতিরোধ করতে পারছে মুলিম দেশগুলো।এমনকি প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না! নীরবে হজম করে যাচ্ছে নরাধমের মতো।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, নিজের দেশে অন্য দেশ কর্তৃক বোমা হামলার পও এসব দেশের টনক নড়ছে না। হচ্ছে না আত্মোপলব্ধি। নিজেদের অজানা দুর্বলতা তাদের ন্যূব্জ করে রেখেছে বৈকি। এসব কাজ যেসব দেশে সংঘটিত হচ্ছে সেসব দেশের সরকার ও জনগণকে নিজে দেশে পরবাসী মনে করা হচ্ছে। অ্ন্যথায় তারা এর যৌক্তিক প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে না কেন।

এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিশ্বের সাতটি মুসলিম দেশে ২৬ হাজার ১৭১টি বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরাক ও সিরিয়াতেই ২৪ হাজার ২৮৭টি বোমা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেন, আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও লিবিয়ায় বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সভ্যতার দাবিদারদের এমন কাজ অবাক করে বৈকি।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের হামলার হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে শুধু ইরাক-সিরিয়াতেই ৩ হাজার ৭৪৩ বোমা হামলা চালায় এই জোট। মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনের পরিসংখ্যানের বরাতে 'কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন' নামে দেশটির একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সমীক্ষায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ৯ জানুয়ারি ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। মুসলিম দেশগুলোয় প্রকাশ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন ভয়াবহ চিত্র, সার্বজনিন মানবাধিকারের জন্য চরম লজ্জা ও ঘৃণার।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় ১২ হাজার ১৯২টি, ইরাকে ১২ হাজার ৯৫টি, আফগানিস্তানে এক হাজার ৩৩৭টি, লিবিয়ায় ৪৯৬টি, ইয়েমেনে ৩৪, সোমালিয়ায় ১৪ এবং পাকিস্তানে ৩টি বোমা ফেলেছে। এর আগে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছয় মুসলিম দেশ সিরিয়ায়, ইরাকে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ২৩ হাজার ১৪৪টি বোমা ফেলেছিল। পরের বছর ওই ছয়টি দেশের সঙ্গে লিবিয়ায়ও বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র! আগ্রাসনের এর চেয়ে ঘৃণ্য চিত্র আর কী হতে পারে?

এভাবে অবাধ বোমা হামলা চলতে থাকলে মুসলমানদের অবস্থা কী হবে, মহান আল্লাহই তা ভালো জানেন। তবে এটা যে এভাবে চলতে দেয়া যায় না, মানবাধিকারে বিশ্বাসী সচেতন জনগোষ্ঠীর অভিমত তাই। অচিরেই যদি মুসলিম দেশগুলো নিজেদের দেশে অন্য দেশের দ্বারা বোমা হামলার ধুষ্টতার ব্যাপারে সোচ্চার না হয়, তাহলে তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ভয়ঙ্কর আরো কিছুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার থাকবে না- এ অভিমত তাত্ত্বিকদের।

মুসলিম দেশগুলোয় কোনো সমস্যা-সংকট থাকলে, সেটা নিজেরা সমাধান করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। জঙ্গি সমস্যা থাকলে সেটাও। যে যে কারণে সেসব দেশে বিশ্বমোড়লরা নাক গলানোর সুযোগ পবে, সেসব ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর অমুসলিম দেশগুলোকে মুসলিম দেশগুলোয় বোমা-বিমান হামলার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত কাজ থেকে বিরত রাখতে ওআইসি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : JALAM_PRODHAN72@YAHOO.COM

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech