রাজপরিবারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই ‘নিখোঁজ’ করে দেওয়া সৌদির সাধারণ কৌশল

  14-10-2018 11:36AM


পিএনএস ডেস্ক: খ্যাতনামা আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির অন্তর্ধানের আগে সৌদি রাজপরিবারের দ্বারা একই রকম চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন দেশটির একজন নির্বাসিত প্রিন্স। জার্মানিতে নির্বাসনে থাকা সৌদি প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমন অভিযোগ তুলেছেন রাজপরিবারের ব্যপারে।

তিনি জানান, দেশের বাইরে থাকা যেসব ব্যক্তি রাজপরিবারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন তাদের ডেকে নিয়ে ‘নিখোঁজ’ করে দেওয়া সৌদি নেতাদের একটি সাধারণ কৌশল।

প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান জানান, সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের কয়েক দিন আগে তাকেও অপহরণের চক্রান্ত করা হয়েছিল। এটি মূলত বিরোধীদের শান্ত রাখতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কৌশলের অংশ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ ৩০ বারেরও বেশি বার তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমাকে দূতাবাসে যেতে বলেছিল। কিন্তু প্রতিবারই আমি তাদের প্রত্যাখ্যান করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি ভেতরে গেলে আমার সঙ্গে কী ঘটতে পারে।

জামাল নিখোঁজের প্রায় ১০ দিন আগে তারা আমার পরিবারকে অনুরোধ করে তারা যেন আমাকে মিসরে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে একটি চেক দেওয়া হবে। আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করি।’

রাজপরিবারের এই নির্বাসিত সদস্য বলেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগির অন্তর্ধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের জন্য রাজপরিবারের অন্তত পাঁচজন সদস্য রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু উল্টো তাদেরও বন্দি করা হয়। ফলে সবাই ভয়ের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, উদ্বেগ জানাতে গিয়ে বন্দিত্বের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তিরা রাজাকে বলতে চেয়েছিলেন যে, জামাল খাশোগি ইস্যুতে আল সৌদ পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

২ অক্টোবর ২০১৮ দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন খাশোগি। এরপর থেকে আর তাকে দেখা যায়নি। তুরস্কের তদন্তকারীরা বলছেন, সৌদি আরবের ১৫ জন এজেন্ট কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগিকে হত্যা করেছে। তুর্কি আরব মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান তুরান কিসলাকসি একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, খাশোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।

সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বের হয়ে গেছেন। পরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান খাশোগির কনস্যুলেট ত্যাগের প্রমাণ চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হয় রিয়াদ। এমনকি ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজও সরিয়ে ফেলে সৌদি কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ।

পিএনএস/আনোয়ার

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন