মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লেনদেন বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের

  

পিএনএস ডেস্ক : রোহিঙ্গাাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল জানায়, মিয়ানমার সেনাদের ‘জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের মুখে’ দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা তখন তাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, আটক ও গণধর্ষণের মত অপরাধ চালায়। তখন প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। জাতিসংঘের হিসাব মতে, সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়েছে। আর মিয়ানমার সেনাদের এই রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযানকে ‘জাতিগত উচ্ছেদ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মঙ্গলবার এক বিবৃতেতে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। এখনও পুরোপুরি অচল অবস্থা বিরাজ করছে।’

অন্যদিকে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেন, ‘মিয়ানমারের বর্তমান ও অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘণের মত গুরুতর ইস্যুর সমাধানে আমাদের মিয়ানমারের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাদের ওপর চাপ বাড়াতে আমরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর লোকজনকে সনাক্ত করতে পারি এবং তাদের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করা উচিত।’

জাতিসংঘের অভিযোগ কেবল রোহিঙ্গা নয়, সে দেশের সেনাবাহিনী মিয়ানমারের আরো অনেক জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর ওপর মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সহিংসতা চালাচ্ছে।

যদিও মিয়ানমার তাদের বিরুদ্ধে আনা মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করে না। তারা দাবি করে থাকে, নিরাপত্তা বাহিনী কোনো বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করেনি, তারা কেবল সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাব দিয়ে থাকে।

এই রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। এর আগে গত দশকে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছিলো জাতিসংঘ।

গত বছর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অবেরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনেরি সঙ্গে সম্পৃক্ত সেনা সদস্যদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিয়টন। এছাড়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আর্থিক সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

কিন্তু জাতিসংঘ চাইছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা আরোপ করুক বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো।

সূত্র: আল জাজিরা

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech