পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

  


পিএনএস ডেস্ক: ভারতীয় লোকসভার ৫৪৩ আসনের নির্বাচনের ভোট শেষ হয়েছে ১৯ মে। দেড় মাস ধরে সাত দফায় এই ভোট নেওয়া হয়। আগামীকাল ২৩ মে সকাল আটটা থেকে সারা দেশে একযোগে ভোট গণনা করা হবে। অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে এবার গোটা দেশবাসীর নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে বেশি।

কারণও অনেক। পশ্চিমবঙ্গের শাসনে এখন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের মধ্যে মমতা পান ৩৪টি আসন। কংগ্রেস তাদের থলিতে ভরে ৪টি আসন। আর বামফ্রন্ট এবং বিজেপি পায় ২টি করে আসন।

এবার নির্বাচনের আগেই মমতা লক্ষ্য নেন ৪২টি আসনই জেতার। বিরোধীশূন্য হবে পশ্চিমবঙ্গ। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহও ঘোষণা দেন, বিজেপি এবার এই পশ্চিমবঙ্গে জিতবে ২৩টি আসনে। ভোটের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ঘোষণা দেন, ২৩টি নয়, আরও বেশি আসনে জিতবে বিজেপি।

এমন অবস্থায় কাল ফল ঘোষণার আগেই প্রশ্ন উঠেছে, মমতা কি ৪২ আসনের সব কয়টিতে জিততে পারবেন?

এ সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বুথফেরত সমীক্ষা। দেশের সব বুথফেরত সমীক্ষায় বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে দুই অঙ্কের সংখ্যার আসনে জিতবে বিজেপি। তবে মমতা এখনো জোর দিয়ে বললেন, এবার আর ফিরতে পারবেন না মোদি। মোদি হারছেনই।

অবশ্য নির্বাচন নিয়ে মমতা ইতিমধ্যে অভিযোগ করেন যে বিজেপি এবার ইভিএম যন্ত্র বদলিয়ে ভোটে জেতার ষড়যন্ত্র করেছে। মমতা এই বিশ্বাসে রাজ্যের সব ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমকে কড়া পাহারা দিতে বলেছেন দলের কর্মীদের। যদিও মমতার এই দাবিকে পাত্তা দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

গত রোববার লোকসভার ৫৪৩ আসনের শেষ বা সপ্তম দফার ভোট গ্রহণের পর ভারতের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে আপাতত মমতার স্বপ্ন ভেঙেচুরে চুরমার। ইঙ্গিত দেওয়া হয়, বিপুল ভোটে ফের ভারতে সরকার গঠন করবেন মোদি।

এবিপি নিউজ ও নিয়েলসনের বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা পাবেন ২৪টি আসন। বিজেপি ১৬টি। আর কংগ্রেস দুটি আসন। বাম দল পাচ্ছে না একটি আসনও।

টাইমস নাও ও ভিএমআর তাদের সমীক্ষায় বলছে, মমতা পাবেন ২৮টি আসন। বিজেপি ১১টি, কংগ্রেস ২টি এবং বাম দল ১টি আসন।
রিপাবলিক-সি-ভোটারের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২৯টি আসন পাবে তৃণমূল, বিজেপি পাবে ১১টি এবং কংগ্রেস পাবে ২টি আসন।

সিএমএক্স বলেছে, তৃণমূল পাবে ২৬টি, বিজেপি ১৪টি এবং কংগ্রেস পাবে ২টি আসন। ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৯ থেকে ২২ আসন, বিজেপি ১৯ থেকে ২৩ এবং কংগ্রেস শূন্য থেকে একটি আসন পেতে পারে।

টুডেজ চাণক্য বলেছে, মমতা পাবেন ২৩ আসন, বিজেপি ১৮ এবং কংগ্রেস ১টি আসন।

এ ছাড়া নিউজ ১৮-আইপিএসওএস বলেছে , তৃণমূল পাবে ৩৬ থেকে ৩৮ আসন, বিজেপি ৩ থেকে ৫ আসন এবং কংগ্রেস শূন্য থেকে একটি আসন।

একমাত্র টাইমস নাও-ভিএমআর ছাড়া সব সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বাম দল এবার কোনো আসন পাচ্ছে না। টাইমস নাও বলেছে, বামেদের ভাগ্যে একটি আসন জুটতে পারে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জঙ্গিপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে কংগ্রেসের অভিজিৎ মুখার্জি, রায়গঞ্জে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম ও কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাসমুন্সী, মুর্শিদাবাদে সিপিএম প্রার্থী সাংসদ বদরুদ্দোজা খান, বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ, বারাকপুর বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং, আসানসোলে বিজেপির প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়, কলকাতা উত্তরে বিজেপির রাহুল সিনহা, মেদিনীপুরে তৃণমূলের মানস ভূঁইয়া, বাঁকুড়ায় মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, উত্তর মালদহে কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নূর, বিজেপির অভিনেতা প্রার্থী জয় মুখোপাধ্যায় পরাজিত হতে পারেন।

জয় পেতে পারেন ছয় চিত্রতারকা। তাঁরা হলেন হুগলিতে বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়, আসানসোলে তৃণমূলের মুনমুন সেন, বীরভূমে তৃণমূলের শতাব্দী রায়, বসিরহাটে তৃণমূলের নুসরাত জাহান, যাদবপুরে তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তী এবং ঘাটালে অভিনেতা দেব।

বুথফেরত সমীক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘মোদি হারছেনই। আমি বুথফেরত সমীক্ষা বিশ্বাস করি না।’

তাই সত্যি কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানা যাবে আগামীকাল।



পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech