দেশে দেশে গৃহবন্দী ঈদ!

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রাণঘাতি করোনায় এবার গৃহবন্দী অবস্থায় দুনিয়ার দেশে দেশে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। বৈশ্বিক ওই মহামারি থেকে জীবন বাঁচাতে এবার পৃথিবীর কেথাও ১০ জনের বেশি জমায়েত হয়নি। ঈদের জামাত হয়েছে পবিত্র দুই মসজিদ মক্কা মুকাররামা ও মদীনা মুনাওয়ারায়। ইমাম, মুয়াজ্জিন আর খাদেমরা জামাতে শামিল হয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রজুড়ে কারফিউ বলবত থাকায় সাধারণ মানুষে ঘরের বাইরে যাওয়া বারণ। জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ফয়ছল আহমেদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- দেশি বিদেশি সবাই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিজ নিজ গৃহে যে যার মতো করে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সৌদি আরবে ২৩ শে মে থেকে ঈদ উল ফিতরের ছুটি৷ করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির সরকার ঈদ-ছুটি শুরুর দিন থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে। যা বলবত থাকবে ২৭ শে মে পর্যন্ত।

সৌদি আরবে শতাধিক বাংলাদেশি করোনার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনের পর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন সৌদি আরবে।

কূটনৈতিক সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট মতে, দুনিয়ার বেশির ভাগ রাষ্ট্র মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগের স্থান মসজিদুল হারাম (কাবা শরীফ) ও মসজিদে নববীর (রাসুল সা. শায়িত সেখানে) খাদেমদার রাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোববার ঈদ উল ফিতর পালন করেছে। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ ও ভারত। এ দু'টি দেশে সোমবার ঈদ হবে রাষ্ট্রীয়ভাবে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগ এবং কিছু কিছু অঞ্চলে বাংলাদেশ এবং ভারতেও রোববার ঈদ উদযাপিত হয়েছে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে। ঘটনাচক্র বা কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের ঈদ যাপনের বিষয়টি মিলে গেছে। দু'দেশেই শনিবার (২৯ শে রমযান) শাওয়ালের চাঁদ খোঁজা হয়েছে, কিন্তু কোথাও দেখা যাওয়ার খবর মিলেনি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুসলিম প্রধান পাকিস্তানের এবার শাওয়ালের চাঁদ তালাসের চেয়ে ক্যালেন্ডারের মনোযোগ ছিল বেশি। তাই ইসলামবাবাদ আগেবাগেই অর্থাৎ দিনের বেলায় রিয়াদের সঙ্গে মিল রেখে রোববার ঈদ উল ফিতর উদযাপনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। শ্রীলংকান মুসলিমরাও সম্মিলিত সিদ্ধান্তে রোববারই ঈদ পালন করেন। সেখানেও তারা ঘরোয়া আয়োজনে খুশির দিনটি কাটান। সদ্য সেক্যুলার নেপালের অল্প সংখ্যক মুসলিম রয়েছেন। তারা সোমবার ঈদ করছেন বলে জানা গেছে। থিম্পুতে বহিরাগত মুসলিমরার যে যার দেশের সঙ্গে মিল রেখে এবার ঈদ যাপন করছেন। অন্যান্য বছর থিম্পুস্থ বাংলাদেশ মিশন এবং ভারতীয় মিশন এলাকায় পৃথক জামায়াত হলেও করোনার কারণে এবার তা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন থিম্পুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল করিম। উল্লেখ্য, কিংডম অব ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মেডিকেল পড়ুয়া লোটে শেরিং শনিবারই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে প্রবেশাধিকার সীমিত, বৃটেনে পুরোপুরি বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে খবরা খবর এসেছে তাতে বলা হয়েছে- করোনার ভয়াবহতায় ঈদে মসজিদে সীমিত প্রবেশাধিকার রয়েছে। অনেকে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তবে বেশিরভাগই বাসায় কাটাচ্ছেন। নিউইয়র্কের একজনের ভাষ্য ছিল এমন- মুত্যুপুরিতে আবার কিসের ঈদ, কিসের আনন্দ। প্রায় আড়াই শতাধিক বাংলাদেশি কেবল নিউইয়র্কেই মারা গেছেন জানিয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সিলেটের ওই নারী বলেন, এত মৃত্যু দেখার পরও নিউইয়র্কবাসী যে এখনও স্বাভাবিক আছে সেটাই বড় কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমরাও সবাই ভালো আছি। এবার ঈদ গৃহবন্দি হয়ে করতে হচ্ছে। তুবুও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমরা এখনও সুস্থ আছি।

এদিকে বৃটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত মতে করোনার কারণে লন্ডনসহ গোটা বৃটেনে সব ধর্মীয় প্রার্থনা কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। করোনাের কঠিন সময় পার করছে দেশটি। প্রতিদিনই লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। লন্ডনে দেড় শতাধিক বাংলাদেশ বংশোদ্ভুত বৃটিশ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। হাজার হাজার বৃটিশ নাগরিক মারা গেছেন। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার আশিকুন নবী চৌধুরীর মতে, করোনাকালের ঈদ সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা। ফেইথ বেইজড সব ইন্সটিটিউট বন্ধ। ফলে মসজিদও বন্ধ রয়েছে। যে যেভাবে পারছেন ঘরেই ঈদের নামাজ পড়েছেন। বৃটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নবাব উদ্দিনের মতে, এবার ঈদও লকডাউনে পড়ে গেছে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর যে পবিত্র দিনটি আল্লাহ মুসলিম সম্প্রদায়ের পরস্পরের সঙ্গে আনন্দ উদযাপনের জন্য দিয়েছেন সেটি এবার ভার্চুয়ালি করতে হচ্ছে। নবাব বলেন, শোকাবহ এই ঈদে চিকিৎসক, সমাজসেবী, কমিউনিটির পরিচিত মুখগুলো বারবার মননে আসছে, যারা করোনায় হারিয়ে গেছেন এই অল্প ক'দিন আগে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন