করোনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সুইডেনকে ফলো করছে

  




পিএনএস ডেস্ক” রাজ্যে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত ডাক্তার দিপতেন্দ্র সরকার মনে করছেন, মহামারির বিস্তার রোধে কোভিড-১৯ পরীক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়ে এবার সুইডেন কিংবা তাইওয়ান মডেল অনুসরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

রাষ্ট্র পরিচালিত এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসক দিপতেন্দ্র বললেন, ভারতে লকডাউন চলছে প্রায় ৭০ দিন ধরে এবং এই রোগ মোকাবিলায় এখন ধীরে ধীরে কড়াকড়ি তুলে দেওয়ার সময় হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি তারা মডেলের দিকে ঝুঁকছে, এখন পর্যন্ত তারা লকডাউনের মধ্যে দিয়ে গেছে।’

উহানে ৭২ দিনের লকডাউনের কথা উল্লেখ করে দিপতেন্দ্র বলেছেন, ৬০ থেকে ৭০ দিনের লকডাউন সংক্রমণ স্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেয়। সুইডেন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে অনুসরণ করলে সাফল্য মিলবে বললেন তিনি, ‘সুইডেন মডেল কিংবা তাইওয়ান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া যেটা করেছে, লকডাউনের পরিবর্তে তারা পরীক্ষায় জোর দিয়েছে এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগণকে আলাদা করে রেখেছিল। তারা সমান সফলতা পেয়েছে।’

দিপতেন্দ্রর মতে, পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা না থাকায় শুরুতে কঠোর লকডাউনে বাধ্য হয়েছিল সরকার। কিন্তু এখন গোটা দেশে করোনা পরীক্ষার সামর্থ্য অনেক বেশি, প্রতিদিন এক লাখ। তাতে লকডাউন থেকে বেরিয়ে এসে সরকার সুইডেন কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া মডেলের দিকে ঝুঁকলে সমস্যা দেখছেন না তিনি।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক গবেষণা অনুসারে দিপতেন্দ্র বললেন, যদি মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ মানুষ সাধারণ মাস্ক পরেন, তাহলেও ৯০ শতাংশ সংক্রমণ রোধ করা যাবে। তার মতে মহামারির যতদিন যাবে ভাইরাসও তার শক্তি হারাতে থাকবে।

করোনা ঠেকাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যেখানে লকডাউনে ঘরবন্দি সময় পার করছে, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইডেন ওই পথে হাঁটেনি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভারসাম্য রাখতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং মাস্ক পরা ও পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি গুরুতর রোগে আক্রান্তদের আলাদা করায় জোর দিয়েছে। তাতেই সাফল্যের মুখ দেখেছে দেশগুলো।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন