উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, বাঙ্কারে পালালেন ট্রাম্প!

  

পিএনএস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসের এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন এখণ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও।

বিক্ষোভ দমেন অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সেনাবাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজ ঘিরে আন্দোলন করছেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ সুরক্ষিত একটি বাঙ্কারে নেয়া হয় বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে আন্দোলনকারীরা হোয়াইট হাউজের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। ভবনের সীমানা প্রাচীরের পাশে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় একসঙ্গে শত-শত মানুষ জড়ো হওয়ায় আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা হঠাৎ হোয়াইট হাউজে যান। তারপর তারা ট্রাম্পকে আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নেন। অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সময় এই বাঙ্কার ব্যবহার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা।

টাইমসের প্রতিবেদনে কয়েক জন উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘শুক্রবার রাতের ঘটনায় প্রেসিডেন্টের পরিবার বিহ্বল হয়ে পড়ে।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর ওয়াশিংটনসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে জ্বালাও, পোড়াও এবং ভাংচুর শুরু হয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করছেন।

লুটপাট শুরু হলে গুলিও শুরু হবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ট্রাম্প টুইটে আরও লেখেন, ‘যদি তারা সীমানা পার হতো, তাহলে দুষ্টু কুকুরের অভ্যর্থনা পেত। যত্ন করা হতো ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে।

ট্রাম্পের দাবি, তিনি জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু নিহতের ভাই ফিলোনিজ ফ্লয়েড সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে কথা বলারই সুযোগ দেননি!

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে আন্দোলনে নামে কৃষ্ণাঙ্গরা। তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন চলছে গোটা আমেরিকায়।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন