মিয়ানমারে সেনাদের গুলি উপেক্ষা করে চলছে বিক্ষোভ

  

পিএনএস ডেস্ক : মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বন্দুকের ভয় দেখিয়ে মানুষকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। প্রতিদিনই বিক্ষোভে নেমে আসছেন জনগণ। তাদের দাবি অং সান সূচি'র মুক্তি দিয়ে পুনর্বহাল করতে হবে বেসামরিক প্রশাসন। গুলিতে চালানো হলেও বিক্ষোভকারীরা থেমে যাননি।

কমপক্ষে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে একজন টিনেজার এবং একজনের বয়স ২০ বছর। প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের ৪৬ বছর বয়সী সান সান মাওয়া বলেছেন, 'প্রতিজন মানুষ এই বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন। আমাদেরকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারের মতো দেশে তারিখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ ২২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) এইদিনে পূর্ববর্তী প্রজন্ম সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল। সেনাবাহিনী হাতে রক্ত লাগিয়ে দমন করেছিল সেই বিক্ষোভ।'

অন্যদিকে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন টেলিভিশন এমআরটিভি বিক্ষোভকারীদেরকে আজ সোমবার বিক্ষোভের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা এখন সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে। বিশেষ করে টিনেজ এবং যুব সমাজকে উসকে দিয়ে সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এতে প্রাণহানী ঘটতে পারে তাদের। সামরিক জান্তা জানায়, বিক্ষোভে আহত এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

সামরিক জান্তার জবাব দিয়ে থেট থেট হ্লাইং (২২) বলেন, 'আমি সামরিক জান্তা চাই না। আমি চাই গণতন্ত্র। আমাদের ভবিষ্যত আমরাই রচনা করবো। বিক্ষোভে আসতে আমার মা আমাকে বাধা দেননি। তিনি শুধু বলেছেন, দেখেশুনে চলো।'

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন এবং স্থানীয় স্টোরগুলো আজ সোমবার বন্ধ রয়েছে।এছাড়াও, ইয়াম ব্রান্ডস ইনকরপোরেশনের কেএফসি, ফুডপান্ডার প্রতিদিনের সরবরাহ,দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ান কোম্পানি গ্রাব সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, 'কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে। মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কিছু দেশ হস্তক্ষেপ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।'

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে। চারদিকে থমথমে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি কিছু দূতাবাসের সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন ইয়াঙ্গুনের অধিবাসীরা।

পিএনএস/এসআইআর

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন