রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মহা নেয়ামত ও বরকতের মাস এটি। মহান আল্রাহ রোজার ফল অথবা নেয়ামত নিজে রোজারদের দেবেন। বরকতময় এ মাসে রোজার পরিবেশ খুব একটা বজায় নেই। ৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে দিনের বেলা হোটেল, রেঁস্তোরা ও চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে খাবার গ্রহণ ও বেচাকিনি চলছে। এমনটা তো হবার কথা নয়।

রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোর দুপাশে হোটেল-রেঁস্তোরা খোলা থাকবে দিনের বেলা, তা ভাবতেও অবাক লাগে। অথচ দিব্যি অবাধে খাবার গ্রহণ ও বিক্রি চলছে। মালিবাগের আবুল হোটল ছাড়া অন্য হোটেলগুলোয় প্রকাশে খাবার চলছে! এমনকি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশের হোটেলগুলোয়ও একই চিত্র। রমজানে অমুসলিম দেশেও এমন ঘটনা ভাবা যায় না।

রাজধানীর রাস্তাঘাটে, যানবাহনেও খাবার গ্রহণের দৃশ্য চোখে পড়ছে। রোজার পরিবেশ নষ্ট করছে একশ্রেণীর মানুষ। কড়াকড়ি ও বাধা-নিষেধ না থাকায় রোজায় দিনের বেলায় পানাহারের সুযোগ পাচ্ছে নরাধমরা। টং দোকানের সামনে কাপড় টানিয়ে লুকানোর ব্যবস্থা করা হলেও অনেক হোটেল-রেঁস্তোরায় অন্য সময়ের মতো প্রকাশ্যে খানাপিনা চলছে।

রাস্তার পাশে দেখা গেল এক ভদ্রলোক সিগারেট ফুঁকছে, সঙ্গে চা পান করছে। আজ বেলা আড়াইটার দিকে মালিবাগ ফ্লাইওভারের নিচের এ দৃশ্যটি অবাক করে। পথচারিরা দেখছেন, কিন্তু কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। আর ওই লোকটির মধ্যে কোনো রকম অপরাধরোধ লক্ষ করা যায়নি। চেহারা-চুরুতে লোকটিকে অন্য ধর্মের মনে হয়নি। রমজানের পবিত্রতা এভাবে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে, সে রমজানের বাইরে সারা জীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না; (তিরমিযী, আবু দাউদ)। এটা হলো বাস্তবতা। রমজানকে পেয়েও যারা তা পালন করতে পারেনি, তারা হতভাগ্য।

আমাদের দেশের একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর খাবারে ভেজাল, মাপে কম আর অতিরিক্ত মুনাফা আদায় তো নিয়মে পরিণত। অথচ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে রমজানে সরকার ও ব্সেরকারি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়ে পণ্য মূল্য কমায়, দেয় নানা ধরনের প্রণোদনা। আর আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। আমাদের সিটি করপোরেশন কসাইদের কাছ থেকে উৎকোস নিয়ে এককালের ৬০ টাকা কেজি গরুর গোশত ৫২৫ টাকায় নিয়ে এসেছে! আমাদের জন্য রমজানে এটা হলো প্রণোদনা।

রমজানের শিক্ষা সংযোম। সবকিছুতেই এটা করার আর্দশ মাস রমজান। এ মাসে প্রশিক্ষণ নিয়ে পুরো বছর মুসলমানরা এ শিক্ষাকে মাথায় রেখে জীবন পরিচালনা করবেন। রোজাদারের কথা-কাজ ও আচার-আচরণে নম্র-ভদ্রতা ফুটে উঠবে। তারা কারো সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবেন না। কারো কোনো প্রকার ক্ষতি সাধান করবেন না। এমনকি প্রয়োগ করবেন না কটূবাক্য। সবাই এ রকম করলে সমাজে শান্তি আসবে সহজেই। রোজার এ শিক্ষা মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।

রোজায় পবিত্রতা রক্ষায় আমাদের সরকার, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব অনেক। সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ব্যর্থতার কারণেই রোজায় দিনের বেলা পানাহারের উৎসব চলে একটি দেশের রাজধানীতে। রাজধানীতে এমনটা হলে বাইরের পরিবেশ কেমন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আমাদের সমাজে রোজার দিনে প্রকাশ্যে পানাহার, হোটেল-রেঁস্তোরা, চায়ের দোকানে পর্দা টানিয়ে খাবার গ্রঞন ও বিক্রি একটি মুসলিম-প্রধান দেশের জন্য লজ্জার বৈকি। এ লজ্জা রাখি কোথায়? রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সবার আরো অধিক সতর্ক হওয়া সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech