লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

  


পিএনএস ডেস্ক: জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্কুলটির বিরুদ্ধে নতুন করে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এলে তা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে বাধ্য থাকবে স্কুলটি।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

উল্লেখ্য, লেকহেড গ্রামার স্কুলের গুলশান ও ধানমন্ডি শাখা বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার রায়ের দিন ধার্য করেছিল হাইকোর্ট।

গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত জারি করা রুলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ‘সোমবার (১৩ নভেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অপজিশন অ্যাফিডেভিট আদালতে দাখিল করেছে। আদালতও উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। এরপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর গুলশান ও ধানমন্ডির দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, সরকারের অনুমোদন না নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

পরে গত ৯ নভেম্বর ওই স্কুলটি বন্ধের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন ও ১২ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষে দুটি রিট দায়ে করা হয়। রিট দুটির আংশিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।

শুনানি শেষে বন্ধ স্কুলটি খুলে দিতে এবং স্কুলের মালিককে তার প্রতিষ্ঠান খোলা ও পরিচালনা করতে দেওয়ার জন্য কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কোনও প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ওই তিনটি রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রিটকারী অভিভাবকদের পক্ষে আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ শুনানিতে বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে হঠাৎ স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের কেউ জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ আছে। তাছাড়া, স্কুলটির মালিকানাও বদলেছে।’

শুনানিতে এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘বিনা নোটিশে এভাবে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা এখন কোন স্কুলে যাবে? তারা কিভাবে নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে?’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, ‘স্কুলটির বিরুদ্ধে জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে। এখানে শিক্ষা কার্যক্রমের আড়ালে উগ্র ধর্মীয় মতবাদ প্রচার হয় বলেও অভিযোগ আছে। এসবের ভিত্তিতে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। সেই সূত্রেই স্কুলটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘স্কুলের সব শিক্ষার্থী জঙ্গি হলে সবাইকে আটক করেন। দুই-একজনের জন্য তো সব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তারা এখন কোথায় যাবে? কোথায় ভর্তি হবে? তাছাড়া, ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আর্জি রেখে মামলার শুনানি রোববার (৯ নভেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) পুনরায় ওই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech