হাসপাতাল না কসাইখানা?

  

পিএনএস ডেস্ক: সিজারের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে অপারেশন শেষ করার ঘটনায় পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, আপনার এটা কী, হাসপাতাল না কসাইখানা?

ভুয়া ডাক্তারের উদ্দেশে বলেন, আপনি ডাক্তার না হয়ে নারীর পেট কেটেছেন। আমাদের মানুষদের কি কোনো দাম নেই? কসাইরাও তো এরকম করে না।

সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলেন।
আদালত নিরাময় ক্লিনিকের মালিক আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার এটা কী, হাসপাতাল না কসাইখানা? জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, ক্লিনিক। এরপর ভুয়া ডাক্তার রাজন দাসকে দেখিয়ে আদালত বলেন, তার সার্টিফিকেট আছে? তিনি কি ডাক্তার? অপারেশন কি উনি করেছেন? আপনারা কী জানেন?

জবাবে ক্লিনিকের মালিক বলেন, সার্টিফিকেটের ফটোকপি দিয়েছে। আদালত বলেন, শুধু পেট কেটে সেলাই করলে ডাক্তার হয়ে যায়! ওটা ক্লিনিক নাকি কসাইখানা? এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল ভিকটিমের কোনো খোঁজ-খবর নিয়েছেন?

ক্লিনিকের মালিক বলেন, আমরা রোগীর চিকিৎসার জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা দিয়েছি। আদালত বলেন, এতে সব হয়ে গেছে? ১ লাখ ১৩ হাজার টাকাই কি যথেষ্ট? আব্দুর রহমান বলেন, না। লাগলে আরো দেব।

এরপর আদালত ভুয়া ডাক্তার রাজন দাসকে ডায়াসের কাছে আসতে বলেন। আদালত তাকে জিজ্ঞেস করেন আপনি কে? আপনার নাম কী? জবাবে রাজন বলেন, অর্জুন চক্রবর্তী। আদালত বলেন, রাজন কে? তিনি চুপ থাকেন। এরপর আদালত রাজনকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি ডাক্তার? জবাবে রাজন বলেন, না। অল্টারনেটিভ মেডিসিন।

এ সময় আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসের পক্ষে দাঁড়াতে চাইলে আদালত বলেন, হি ইজ ফেইক ডক্টর। মি. ইসলাম ছবিগুলো দেখেন। (ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও অস্ত্রোপচারের বীভৎস ছবি দেখানো হয়)।

তখন এ আইনজীবী সরে দাঁড়ালে আদালত রাজনের উদ্দেশে বলেন, আপনি ডাক্তার না হয়ে নারীর পেট কেটেছেন। আমাদের মানুষদের কি কোনো দাম নেই? কসাইরাও তো এরকম করে না। ওদেরও একটি নিয়ম আছে। ভুয়া ডাক্তার আপনি। অ্যারেস্ট হিম। রাজনকে গ্রেফতারে কোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর আদালত ভিকটিমের অস্ত্রোপচারের সময়ের ছবি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমরা কোনো যুগে বাস করছি! এর চেয়ে অমানবিক আর কী হতে পারে। আমাদের সময়ে তো এসব শুনিনি। এটা ভয়ানক! মার্ডারের মতো কাজ! এ সময় ভুল চিকিৎসার শিকার মাকসুদা বেগমের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, তার এ ক্ষত অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে। আদালত বলেন, উনার (ভিকটিমের) লাইফ তো শেষ।

পরে রাজন দাসকে বাউফল থানার মামলায় প্রেফতার দেখিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত এই ঘটনায় ভুল চিকিৎসার শিকার মাকসুদা বেগমের ২৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সামসাদ শুনানি করেন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech