১৪ কম্পানির পাস্তুরিত দুধ নিয়ে করা রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ

  

পিএনএস ডেস্ক : বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিতরণ বন্ধ চেয়ে করা রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে আইসিডিডিআর’বি-এর দেওয়া গবেষণার ফল নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১৮ সালে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। এই রিট আবেদনে ২০১৮ সালের ২১ মে এক আদেশে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচিব এবং বিএসটিআই’র মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় আদালতের আদেশে চারটি ল্যাবে দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপর আদালত রুল জারি করেন। যা ওই আদালতে জারি করা রুল শুনানির জন্য বিচারাধীন ছিল। এ অবস্থায় রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। আজ আদালতে ছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তানভির আহমেদ।

এর আগে গত বছর ২৮ জুলাই হাইকোর্ট এক আদেশে ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদেশে আদালত বলেছিলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মৎস ও পশু খাদ্য আইন-২০১০ অনুসারে বর্তমানে বাজারে থাকা ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধ মানবদেহের জন্য অনিরাপদ ও অগ্রহণযোগ্য। হাইকোর্টের এই আদেশের পর সকল কম্পানি আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এরপর থেকে সব কম্পানিই পাস্তুরিত দুধ বাজারজাতকরণ অব্যাহত রেখেছে।

রুলে ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসার উপস্থিতি কেন সংবিধান ও সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা সম্বলিত দুধ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিপণন করা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া তাদের মানবদেহের জন্য দুধ পরিশুদ্ধ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের ৮টি সংস্থা এবং ১৪টি দুধ কম্পানিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

হাইকোর্ট যে ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন-

১. আফতাব মিল্ক এন্ড মিল্ক প্রোডাক্ট লিমিটেডের ‘আফতাব’ ব্রান্ড ২. আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের ‘ফার্মফ্রেশ মিল্ক’ ব্রান্ড ৩. আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের ‘মো’ ব্রান্ড ৪. বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসার’স কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেডের ‘মিল্ক ভিটা’ ব্রান্ড ৫. বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক এন্ড ফুডস লিমিটেডের ‘ডেইরি ফ্রেশ’ ব্রান্ড ৬. ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট এর ‘আড়ং ডেইরি’ ব্রান্ড ৭. ড্যানিশ ডেইরি ফার্ম লিমিটেডের ‘আয়রান’ ব্রান্ড ৮. ইছামতি ডেইরি এন্ড ফুড প্রোডাক্টস এর ‘পিউরা’ ব্রান্ড ৯. ঈগলু ডেইরি লিমিটেডের ‘ঈগলু’ ব্রান্ড ১০. প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের ‘প্রাণমিল্ক’ ব্রান্ড ১১. উত্তরবঙ্গ ডেইরির ‘মিল্ক ফ্রেশ’ ব্রান্ড ১২. শিলাইদহ ডেইরির ‘আল্ট্রা’ ব্রান্ড, ১৩.পূর্ব বাংলা ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘আরওয়া’ ব্রান্ড এবং ১৪. তানিয়া ডেইরি এন্ড ফুড প্রোডাক্টস এর ‘সেইফ; ব্রান্ড।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech