আল-জাজিরার বিরুদ্ধে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা

  

পিএনএস ডেস্ক: কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার টেলিভিশনের বিরুদ্ধে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ফেডারেল আদালতে পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বী আলম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আল-জাজিরা ইংরেজি, আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক, ডেভিড বার্গম্যান, কনক সরোয়ার, ইলিয়াস হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলাটি শুনানির জন্য এরইমধ্যে গৃহিত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে) একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বী আলম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ড. রাব্বী আলম বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আল-জাজিরা অপসাংবাদিকতা করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি এই সংবাদমাধ্যমটি মিথ্যা, তথ্যপ্রমাণহীন নিম্নমানের একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করেছে, যা কিনা তাদের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যানের রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রতিফলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল-জাজিরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা সংবাদ সম্প্রচার করে আসছে। আমরা কেবল তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানই করছি না, আইনি পথে তা মোকাবিলা করারও ঘোষণা দিচ্ছি।’

ড. রাব্বী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি মিশিগানের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোর্ট মামলাটি ডকেটে তুলেছে। এ নিয়ে শুনানিসহ পরবর্তী অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আল-জাজিরার কার্যালয়কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান উল্লেখ করে ড. রাব্বাী আরও বলেন, ‘ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-জাজিরাকে বয়কট ও বাংলাদেশের যে সম্মানহানি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আদায় করাও আমাদের উদ্দেশ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে তথ্যে উৎস হিসেবে যাদের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুধু তাই নয়, অনেক দিন ধরেই আল-জাজিরা বাংলাদেোশল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির হয়ে কাজ করছে। এ কারণে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও সঠিক তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা টিভিতে “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’র মেন” (ALL THE PRIME MINISTER'S MEN) শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার হয়। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন ও অপপ্রচারমূলক’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিবৃতিতেও প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আল-জাজিরা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিটের ওপর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের এ এম আমিন উদ্দিনের বক্তব্য শোনার পর আল-জাজিরার প্রকাশিত তথ্যচিত্রভিত্তিক প্রতিবেদনটি ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুকসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

একইদিন আজ আল-জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমটির ডিরেক্টর জেনারেল (এডিটর ইন চিফ) মোস্তেফা সরওয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এ মামলার আবেদন করা হয়। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মালেক ওরফে মশিউর মালেক বাদী হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজেস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে এ আবেদন করেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী ডেভিড বার্গম্যান, শায়ের জুলকার নাইন ওরফে সামি ও নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল।

এই মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুনামহানি করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধে লিপ্ত আছে। তারা যৌথভাবে তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে ভুয়া মিথ্যা তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’র মেন” (ALL THE PRIME MINISTER'S MEN) শিরোনামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী একটি তথ্যচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করে। উক্ত প্রতিবেদন ইউটিউবেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। যা পরদিন বিভিন্ন মুদ্রিত ও অনলাইন পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়, আসামিরা উক্ত প্রতিবেদনে কোনও সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনও বক্তব্য না দিয়ে এবং তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি উপস্থাপন না করেই ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি ও সাক্ষাৎকারের ছবি ব্যবহার করে, কণ্ঠস্বর সম্পাদনা করে একটি কাল্পনিক ভুয়া, মিথ্যা ও সাজানো তথ্যচিত্রের প্রতিবেদন তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আল-জাজিরা টেলিভিশনসহ ইউটিউবের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে অপপ্রচার করেছে। যা দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের সুনাম ও মর্যাদার হানি ঘটিয়েছে।

এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ১২৪/১২৪(এ)/১০৯/৩৪ ধারায় অপরাধ করেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন