চীন অনির্বাচিতদের সমর্থন করে না : মোশাররফ

  



পিএনএস: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট বেগম রওশন এরশাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন নাই। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। এতে প্রমাণ হয় চীন অনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সমর্থন করে না বলেই এই সংসদের বিরোধী দলের নেতাকে সমর্থন করে নাই।

মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের নেতাকে সমর্থন করেছেন বলেই শি জিনপিং বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ একটা ম্যাসেজ যে, তিনি বাংলাদেশের জনগণকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি জিম ইয়ং কিম সাক্ষাত করে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণের প্রয়োজনে যে কোনো সংকটে চীন পাশে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিএমএ’র সাবেক সভাপতি এবং ড্যাব’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী’র ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বিদেশি মেহমানদের আগমন ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের আগমন থেকে বুঝা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি জিয়ো পলিটিকাল স্টেটেজিক পয়েন্টে রয়েছে যে, সারা বিশ্বের নজর পড়ছে, ভবিষ্যতেও পড়বে।

সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চুক্তিগুলো হওয়াতে বর্তমান সরকার তাদেরকে ক্রেডিট দিতে অনেক কিছু বলছেন। আমি বলতে চাই, এসব সমঝোতা স্মারক চুক্তিগুলো করে চীনের প্রেসিডেন্ট এই ম্যাসেজ বাংলাদেশকে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ যাতে করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারে, সেক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশে পাশে আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক কারণে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর নজরে পড়েছে এবং আরো পড়বে। ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেই বিদেশি মেহমানরা দিনে দিনে আসছেন ভবিষ্যতে হয়তো আরো আসবেন। তবে দুর্ভাগ্য রাজনৈতিক হীনমন্যতায় গুণীজন যাদের যতটুকু সম্মান দেওয়া উচিত তা দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করেছিল। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হওয়া পদ্মাসেতু প্রকল্প ‘জনগণের ওপর ঋণের বোঝা বাড়িয়ে’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সাহেব বাংলাদেশে এসেছেন। আমি আশা করি, তার সময়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিলো, সেজন্য অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিলো। সেসময়ে এই পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের জন্য কত টাকা প্রয়োজন ছিলো আর আজকে কত পরিমাণ বেশি টাকা খরচ করে এই সেতু আজকে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ঘাড়ে ঋণের চাপ (বোঝা) বৃদ্ধি করে আজকের সরকার প্রধান জেদের বশবর্তী হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করছেন বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা না নিয়ে। এই বিষয়টি আশা করি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট তলিয়ে দেখবেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বিষয়েও বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রজেক্ট বাংলাদেশে আছে। যে বড় বড় প্রজেক্টে বড় বড় যে কাণ্ড-কারাখানা এখানে হচ্ছে। আমরা আশা করি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এখানে এসেছেন, এগুলো তলিয়ে দেখবেন।

অধ্যাপক এম এ হাদীর প্রতি স্মৃতি চারণ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, হাদী একজন দেশপ্রেমিক চিকিৎসক। আমরা গুণিজনদের প্রশংসা ও সম্মান করতে জানি না। রাজনৈতিকহীনতার কারণে গুণিদের সম্মান করা হয় না। এই কারণে রাজনীতি দিন দিন অবক্ষয়ে দিকে যাচ্ছে।

আয়োজক সংগঠনের সহ সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাব নেতা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তাহির, ডা. সিরাজুল ইসলাম, ডা. এম এ সেলিম, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অধ্যাপক ডা. বজলু গণি ভূইয়া, অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. এম.এ সেলিম, ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব- মো. জাকির হোসেন, ডা. এমএ কামাল, ডা. এবিএম সায়েফউল্লাহ প্রমুখ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রিপন, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গির আলম, নাগরিক দলের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মো. ওমর ফারুক পীরসাহেব প্রমুখ।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech