মৌলভীবাজার-২ আসনে আলোচনায় এক ডজন প্রার্থী

  

পিএনএস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। মহাজোট ও ২০-দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে এক ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন তিন নেতা। তারা হলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মো. মনসুর আহমদ, বিএনপির সাবেক এমপি এমএম শাহীন ও জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান।

তাদের মধ্যে সুলতান মো. মনসুর আহমদকে নিয়ে আলোচনা আছে দলে ও দলের বাইরে। সুলতান সমর্থকরা আশা করেন, তিনি যেন নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করেন। আগামী নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও ভোটের মাঠে প্রধান ফ্যাক্টর হবেন বলেও মনে করেন কর্মী-সমর্থকরা।

বর্তমান এমপি আবদুল মতিন ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় আছেন অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম, বিএমএ সিলেট শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকনউদ্দিন, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম নাদেল, পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, শিল্পপতি আযম জে চৌধুরীর স্ত্রী মেরিনা ইয়াসমিন এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কামাল হাসান।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করায় সুলতান মনসুরকে মানুষ স্মরণে রেখেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলে তিনি অংশ নেবেন। দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি বঙ্গবন্ধুুর আদর্শের রাজনীতি করেন। সময় বলে দেবে কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সুলতান মো. মনসুরকে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত করে মহাজোটের প্রার্থী করা হয়েছিল অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীমকে। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

বিএনপি তথা ২০-দলীয় জোট থেকে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক এমপি এমএম শাহীন, সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান ও অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন গত নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টু, কেন্দ্রীয় সদস্য আহমদ রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম।

এমএম শাহীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পরিস্থিতি বুঝে দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, আর কুলাউড়া ও কমলগঞ্জের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়ান, তবে মানুষের সেই সিদ্ধান্তকেই তিনি স্বাগত জানাবেন।

দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিমকে। কিন্তু মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বজলুল করিম তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টু ছিলেন পার্শ্বর্তী উপজেলা শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা। সংসদীয় এলাকায় খুব একটা পরিচিতি তাঁর ছিল না। বর্তমান এমপি আবদুল মতিন তখন কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন আবদুুল মতিন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন তিনি। দলীয় বিদ্রোহী অন্য এমপিদের সঙ্গে গত এপ্রিল মাসে আবদুল মতিনও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

দুবারের সাবেক এমপি এমএম শাহীন ও অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাই মূলত বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাবেক নেতা নওয়াব আলী আব্বাস খান পরে ২০-দলীয় জোটের নেতা প্রয়াত কাজী জাফরের নেতৃত্বাধীন জাপার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি ২০-দলীয় জোটে আসায় জোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। এখন কে হচ্ছেন জোটের প্রার্থী তাই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

নওয়াব আলী আব্বাস খান ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী হিসেবে। তিনি জানান, আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি। নির্বাচন করব। বাকিটা মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে।

এবার জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী মহাজোটের সাবেক প্রার্থী মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টু ও জাপার কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম। একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ রিয়াজ মৌলভীবাজার-১ ও মৌলভীবাজার-২ আসনে এবার প্রার্থী হতে চান।

২০০১ সালের চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনে এই আসনে অংশ নেন। জামানত হারিয়ে আর কোনো নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো তৎপরতাও লক্ষ করা যায়নি এই আসনটিতে।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech