প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আপোসহীন নেতৃত্ব উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী

  

পিএনএস ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগের হৃদয়ের মানুষ,প্রাণপ্রিয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব , ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের বর্তমান এমপি,জননেতা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ সজিবুল হুদা তার ফেসবুক ওয়ালে তুলে ধরেছেন এক অসাধারণ বক্তব্য। এখানে প্রমাণ পাওয়া যায় প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা আপোসহীন মোকতাদির চৌধুরী এমপি ।তার নিজস্ব ভাষায় তুলে ধরা হলো লেখাটি।

জন্মগতভাবেই আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান।আমার বাবা আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী যিনি দেশ স্বাধীনের পূর্ব থেকে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের কর্মী বৃদ্ধিতে নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন।আমাদের গ্রামে আওয়ামীলীগের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে যেই দু-চার জন নেতৃত্ব দেন তাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম।আমার বাবার কাছ থেকে আওয়ামীলীগের সুদীর্ঘ পথচলার ইতিহাস শুনে শুনে আমি কিশোর বয়সেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের প্রেমে পড়ি।১৯৯৯ সালে আমি যখন চিনাইর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হই তখন পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ে কোন বিল্ডিং ছিলনা,বিদ্যালয়ে ছিলনা পর্যাপ্ত পরিমান বেঞ্চ। কিন্তু সেই সময় আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া-লেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার নিমিত্তে সরকার একটি বিল্ডিং নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন,আমাদের চিনাইর আঞ্জুমান আরা স্কুল ও কলেজের আলাদা কোন কলেজ ভবন ছিলনা,প্রতিষ্ঠনটির সামনের খেলার মাঠটি বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে যেত তখন নৌকাই ছিল প্রতিষ্ঠানটিতে আসা-যাওয়ার জন্য একামাত্র মাধ্যম। ১৯৯৮ সালে সেই প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠটি ভরাট ও কলেজ ভবন নির্মানের জন্য বরাদ্দ আসে বর্তমানে যে কলেজটির নাম চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাস্তুহারা চল্লিশটি পরিবারকে আবাসনের আওতায় আনা হয়,এলাকার হত-দরিদ্র মানুষগুলো যাতে বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারে সেজন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়,আমাদের গ্রাম থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য যে রাস্তাটি ব্যবহার করা হত তার অবস্থা ছিল খুবই নাজেহাল কিন্তু ঐ রাস্তাটি ছিল জেলা সদরের সাথে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৬০,০০০ ষাট হাজার জনগণেরর যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন ১৯৯৮-৯৯ সালে মেগাপ্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে সদর উপজেলার সাথে আখাউড়া উপজেলার সংযোগের জন্য এই রাস্তার ব্যাপক উন্নয়ন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়,যেটি বর্তমানে ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতি রোড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।আর এসব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে যিনি ত্রাতারূপে ভূমিকা পালন করেন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন একান্ত সচিব,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগের হৃদয়ের মানুষ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের বর্তমান এমপি,জননেতা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

আমি তখনি এই মহান ব্যক্তিটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। সেই সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,মন্দির,গীর্জা,রাস্তা-ঘাট,কালভার্ট-সেতু নির্মানের মাধ্যমে উন্নয়নের রূপকার খ্যাতিতে ভূষিত হন।বাবার কাছ থেকে শুনেছি জনগনের রবিউল ছাত্র অবস্থা থেকেই ছিলেন নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আপোসহীন অকুতোভয় বীর।

তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস পদে নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানী স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হন।তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক সময় শেখ কামালে ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হন।আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত অবস্থায় গ্রেফতার হলে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রবিউলের জন্য নিজে রান্না করে জেলখানায় খাবার পাঠাতেন।তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এবং শত্রুবাহিনীর বুলেটের আঘাতে আহত হন।

১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রবিউল আলম মোহাম্মদ উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ২১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় ছাত্রলীগের সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঠান্ডা মাথার খুনি খন্দকার মুস্তাকের ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যা করা হলে আওয়ামীলীগের তৎকালীন প্রথম সারির নেতারা যখন আত্মগোপনের পথ বেছে নিয়েছিল,আবার কেউ কেউ যখন খুনি মুস্তাক-জিয়া চক্রের সাথে আঁতাত করে অবৈধ ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে মহাউৎসবে ব্যস্ত। তখন রবিউল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আপোসহীন বীর সেনারূপ ধারণ করে তার নেতৃত্বে জাতির জনক হত্যার প্রতিবাদে ১৯৭৫ সালের ২০ অক্টোবর খুনি জিয়া-মুস্তাকের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে সর্বপ্রথম মিছিল বের করেন,ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার নিমিত্তে সারা বাংলায় চষে বেড়ান,তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় গ্রাম বাংলার প্রতিটি স্থানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুনঃউত্থান ঘটে এবং তিনি খুনি জিয়ার বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করা অবস্থায় ১৯৭৭ সালে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ৩ বছর কারাগারে জীবন যাপন করেন।

১৯৮১ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে কর্ম জীবন শুরু করলেও জাতির জনকের আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপোস করেননি।১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার পর সেনাবাহিনী যখন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য খুঁজতেছিল তখন মোকতাদির চৌধুরী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেত্রীকে খরমপুর দরগা শরীফ থেকে চিনাইরের রাস্তা দিয়ে নিরাপদস্থলে পৌছানোর ব্যবস্থা করেন।তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপির একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে জনতার মঞ্চ তৈরী করেন এবং জনতার মঞ্চের সদস্য সচিব নির্বাচিত হন মোকতাদির চৌধুরী।

তিনি ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির শাসনামলে সীমাহীন নির্যাতনের স্বীকার হলেও নীতি ও আদর্শের সাথে বিন্দুমাত্র আপোস করেননি।আমি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি ২০০৪ সালে তখন আমাদের স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এই নেতাকে নিজ চোখে খুব কাছ থেকে প্রথমবারের মত দেখতে পেরেছিলাম। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজের পদত্যাগের দাবিতে এই মোকতাদির চৌধুরীর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মধ্যে সব চেয়ে বড় রেলপথ অবরোধ সংগঠিত হয়েছিল ব্রাহ্মবাড়িয়া জেলার চিনাইরে।আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে,ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম অভিমুখি আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে দুইঘন্টার অধিক সময় ধরে থামিয়ে রাখার কথা,সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটির পিছনের বগি খুলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল,আমি সেই আন্দোলনের শরিক ছিলাম।

আন্দোলনের পরিণতি সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কালো চশমা পড়া জননেতা মোকতাদির চৌধুরী সেদিন বলেছিলেন যতদিন পর্যন্ত আজিজ কমিশনের পদত্যাগ না হবে ততদিন পর্যন্ত আমি এবং আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যাব। সারাদেশের মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে আজিজ কমিশন পদত্যাগের পর দেশের মধ্যে জারি করা হয় সামরিক আইন।। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সকলের প্রিয় রবিউল ভাইকে।২০০৮ সালে নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয় রবিউল ভাইকে।

রবিউল ভাইয়ের নিকট আমাকে আমার বাবাই সর্বপ্রথম পরিচয় করিয়ে দেন ২০০৯ সালে তখন আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী। সেদিনের পর থেকে আমি সর্বদা প্রিয়েনেতাকে খুব কাছ থেকে দেখে আসতেছি।১৯৭৫-২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য।শপিং মল থেকে শুরু করে ব্যাংক সব জায়গায় আতংক বিরাজ করত।ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বের হওয়ামাত্র সন্ত্রাসীরা টাকা ছিনিয়ে নিত।দলীয় এমপিরা ছিল সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা।২০১১ সালের উপনিবার্চনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোয়ন পান রবিউল ভাই।নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ঘোষণা দেন ব্রাহ্মনাড়িয়াকে সন্ত্রাসীমুক্ত করার।

তিনি ২০১১ সালের ২৩ শে জানুয়ারী তার নির্বাচনী এলাকার কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নতুন প্রজন্মের সংসদ নামে একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখেন,সেই সেমিনারে চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্ব আমি দিয়েছিলাম। ঐ দিন তিনি বলে ছিলেন আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় তাহলে প্রথমে আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সন্ত্রাস মুক্ত করব,তিতাস নদী খনন করব,বিজয়নগর-সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করব,ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলব, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে স্বাক্ষরতার হার ১০০% এ উন্নীত করার উদ্যোগ নিব,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণের সেবক হিসেবে আমি এসেছি,।

তিনি তাঁর কথা রেখেছেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটিকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিতাস নদীর তীর ঘেষে সদর থেকে বিজয়নগর পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি. দীর্ঘ শেখ হাসিনা সড়ক নির্মাণ করেছেন,তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ফ্লাইওভার ব্রিজ নির্মাণ সহ সেদিন আমাদের সামনে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি করে দেখিয়েছেন।তিনি জনগনের দীর্ঘদিনের স্বপ্নগুলো পূরণের মাধ্যমে আজ জনতার রবিউলে পরিণত হয়েছেন।তিনি অনুন্নত,অবহেলিত ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আধুনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিণত করেছেন,ধর্মীয় উগ্রাবাদীদের আগ্রাসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিলুপ্ত শিল্প-সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করেছেন,তিনি এমপি হয়ে তিতাস নদী খননের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন, গ্রামাঞ্চলে রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ ফিরে পেয়েছে শিল্প-সংস্কৃতির রাজধানীর হারানো খ্যাতি,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য নিজেকে উৎস্বর্গ করে তিনি জনতার সমস্ত হৃদয়ে স্থান করে আছেন,তিনি নীতি-আদর্শের সাথে কখনোই আপোস করেননি,তিনি আপোস করেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্ধকার জগতের গডফাদারদের সাথে,তিনি জনগনকে ভালোবাসেন,সাধারণ জনগণের জন্য তার শেকড়ের সামনের দরজা সর্বদা উন্মোক্ত,তাকে পরাজিত করতে কোন ষড়যন্ত্র করা হলে জনগণই তা প্রতিরোধ করবে।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech