গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির আঁচ

  

পিএনএস ডেস্ক: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি।

ভোটারদের পক্ষে টানার জন্য প্রধান দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা ধরণের কৌশল ও হিসাব নিকাশ।

গাজীপুরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ, এর মধ্যে সাত লক্ষ ভোটারই তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করেন।

আর বাংলাদেশে সাড়ে হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে কেবল গাজীপুরেই রয়েছে দেড় হাজারের মত পোশাক কারখানা। ফলে নির্বাচনে পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

শনিবার থেকে চালু হচ্ছে পোশাক কারখানাগুলো। ফলে কাল থেকে হয়তো প্রচারণাও আরেকটু জোরেশোরে চলবে।

কিন্তু গাজীপুরে শুক্রবার গিয়ে বোঝা গেছে, স্থানীয় নির্বাচন হলেও জাতীয় রাজনীতির আঁচ সেখানে স্পষ্ট।

ইতিমধ্যে বিএনপি'র মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দলীয় কর্মীদের ধর-পাকড় এবং হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলছেন, অভিযোগ সত্যি নয়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার কথা, স্থানীয় প্রশাসনও বৈরি আচরণ করছে তার দলের কর্মীদের প্রতি।

"আমাদের কর্মীদের ধর-পাকড় করছে, হুমকি দিচ্ছে। আমাদের 'অ্যাসিউর' করেছে হয়রানি হবেনা, কিন্তু তারপরও এটা থামে নাই। আমরা পারছিনা, একদিক সামলালে, আরেক দিক থেকে ধরে। তবে এর মধ্যেই আমরা চেষ্টা করছি। গণ জোয়ার আছে, এর সামনে হয়ত তারা হেরে যেতে পারে।"

মিঃ সরকার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধর-পাকড়ে ভীত হয়ে কর্মীদের অনেকে আত্মগোপনে বাধ্য হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী প্রচারণায়।

সেই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করতে পারে বলেও আশংকা আছে তার।

বিএনপি বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও, এসব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি দাবী করেছেন, গাজীপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় কোন ধরণের পক্ষপাত হচ্ছেনা।

"লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে কি অপরাধীদের ছাড় দেয়া? সেটা হবে না। গাজীপুরের মানুষ উন্নয়নের জন্য এক হয়েছে, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

আমি অনুরোধ করব বিএনপির কেন্দ্রীয় এজেন্ডা এনে এখানে যেন প্রেসক্রিপশন না দেয়া হয়।"

এদিকে, ঈদের ছুটির পর এখনো তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হয়নি, সেই সঙ্গে ছুটির দিনের সকাল।

কিন্তু গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় পৌঁছে মনে হল রীতিমত ব্যস্ত সরগরম এলাকা।

রিক্সায় মাইক লাগিয়ে কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া যেমন হচ্ছে, আর মোড়ের চায়ের দোকানেও চলছে জমজমাট আলোচনা।

ইস্যু, অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

স্থানীয় একজন সংগঠক বলছিলেন, এ নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির কথাই বেশি হচ্ছে।

"প্রথমে ভাবছিলাম এইটা স্থানীয় নির্বাচন হবে। কিন্তু সরকার দলীয় লোকেরা চেষ্টা করতেছে, নির্বাচন নিজেদের পক্ষে নিয়া জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব রাখতে। কালকে দেখলাম, প্রচারণায় খুলনার মেয়রকে নিয়া আসছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও আসতেছে। আবার ছোট দল যারা, যেমন কম্যুনিস্ট পার্টি তাদের বড় নেতারাও আসে, কিন্তু তারা যদিও প্রভাব রাখার মত না।"

এদিকে, নির্বাচনের আগে শেষ শুক্রবার বলে প্রধান প্রার্থীদের সবাই জনসংযোগে ব্যস্ত। কেউ প্রার্থীদের পরিচয় সম্বলিত গান রেকর্ড করে স্থানীয় প্রতিটি বাজার এবং জনসমাগম হয় এমন সব জায়গায় যাচ্ছেন।

কেউ মোটর সাইকেল করে শোভাযাত্রার মত করছেন। সবার লক্ষ্য প্রায় বারো লক্ষ ভোটারের সবার কাছে অন্তত একবার করে হলেও যেন পৌঁছানো যায়।

উত্তর শালনায় কয়েকজন ভোটার বলছিলেন, তাদের কাছে জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণের মত স্থানীয় ইস্যুগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech