নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ!

  

পিএনএস ডেস্ক : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

সুত্র মতে, আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচনের আভাস দেখা যাচ্ছে। যদিও জামায়াতের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় দলটি নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা হয়েছে অনেক আগেই। তবে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

কিন্তু তাঁর সেই প্রত্যাশা হয়তো পূরণ হবে না। কারণ ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন ১৯৭৩-এর আওতায় আদালত অবমাননার অপরাধে উনি দন্ডিত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজা প্রাপ্ত হয়ে তিনি বর্তমানে কারাভোগ করছেন। এই কারণে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে নিশ্চিত তাঁর কপাল পুড়েছে। তিনি যে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এটা এখন শতভাগ নিশ্চিত!

আইনজ্ঞরাই এমনটাই বলছেন। জানা গেছে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২৫ই জুলাই উনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।

কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আইনজ্ঞদের মতে, সংশোধিত গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ সালের ধারা ১২ (১)(ণ) [ সেকশনা- ১২ (১) (ড়)],যাহা ২০১৩ সালে সংযুক্ত হয়, মোতাবেক তিনি জাতীয় নির্বাচনের অযোগ্য বিবেচিত হবেন। উক্ত আইন মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দ-প্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনের অযোগ্য হইবেন।

যেহেতু হামিদুর রহমান আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দন্ড-প্রাপ্ত হইয়া বর্তমানে সাজা ভোগ করছেন তাই উনি জাতীয় নির্বাচনের জন্য অযোগ্য- এমনটি দাবি করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সেই ক্ষেত্রে দলীয় অথবা স্বতন্ত্র হিসাবে উনি আর প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সচেতন লোকজন বলছেন, ‘হামিদুর রহমান আযাদ যদিও আইনী বাধা দূর করার চেষ্টা করছেন।

তবে নির্বাচনের সময় খুব সন্নিকটে চলে এসেছে। আইনে স্পষ্ট বলা রয়েছে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য। তবে তাঁর চেষ্টা সফল হবে বলে মনে হচ্ছে না। কেননা হাতে সে পরিমাণ সময় নেই। তাঁর নির্বাচন করার ব্যাপারের খুব বেশি সন্দেহ রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিকে হামিদুর রহমান আযাদ সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করলেও এলাকার তাঁর পক্ষে নেতাকর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পুলিশ প্রতিরোধের মুখে তারা অনেকটা আড়ালে-আবড়ালে এসব প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তাদের দাবি, হামিদুর রহমান আযাদ আগামী জাতীয় নির্বাচনে জোটগত বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বেন। এর আগে আইনী প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন বলে নেতাকর্মীদের আশা। তবে আইনের ব্যাখ্যা একটা কঠিন বাধা হলেও সে বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থকেরা তেমন পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের প্রত্যাশা সব আইনী মারপ্যাঁচ এড়িয়ে নির্বাচনের মাঠে ফিরে আসবেন হামিদুর রহমান আযাদ।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech