রাজনীতিতে উত্তেজনা

  


পিএনএস ডেস্ক: উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মাঠের রাজনীতি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতির ডালপালা ততই সক্রিয়ভাবে প্রসারিত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু নানামুখী আলোচনা চলছে। সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা এই ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত দলগুলোর তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে রাজধানীতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার একই দিনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ক্ষমতাসীন দল আগামী তিন মাস রাজনীতির মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিএনপিও প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরো শক্তি নিয়ে রাজপথে নামার।

সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা মেরুকরণের চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করায় রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশজুড়ে যেখানে নির্বাচনের আমেজ থাকার কথা, তা নেই মোটেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের নানা দাবিতে মাঠে থাকা বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল কোনো সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষপাতি নয়। আন্দোলনকে অগ্রাধিকার দিয়েই তারা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। যার ফলে অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। সরকারি দলও সেই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নির্বাচনী মাঠ এককভাবে দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি জোট এবং নতুন রাজনৈতিক মোর্চা যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যসহ সরকারবিরোধী কোনো জোটকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেবে না তারা। সেই লক্ষ্যে সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মতবিনিময়সহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। সরকারবিরোধী এসব দল বা জোট কোনো কর্মসূচি পালন করলে তার পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীনেরা। বিএনপি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের কর্মসূচি দেয়ায় আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। সমাবেশের আগে ঢাকা দখলে রাখতে চায় তারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখবে আওয়ামী লীগ। সে জন্য ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের সামনে বিএনপি জোট, ঐক্য প্রক্রিয়াসহ সরকারবিরোধী নানা জোটের সমালোচনা এবং গত প্রায় ১০ বছরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার নির্দেশনা দেন তিনি। দলীয় সভাপতির এমন নির্দেশনার পর ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাই মাঠে নেমে পড়েছেন। এর মাধ্যমে এক দিকে যেমন তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাঙ্গা থাকবে তেমনি সরকারবিরোধীরাও মাঠ দখল করে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাবে না। আর সারা দেশের মতো কেন্দ্রীয়ভাবেও নিয়মিত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দখল করে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে চায় সরকারের হাইকমান্ড।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের এক সভা থেকে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জোট মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, আগে থেকেই ঢাকা আমাদের দখলে ছিল। ইনশাআল্লাহ আগামীতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। আর শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে। জোটের নেতাকর্মীদের যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, যেন ওই অপশক্তি (বিএনপি) মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না। মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, আগামী একটা মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বিএনপি-জামায়াতের অতীতের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার নামে নৈরাজ্য করলে তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা কোনো অরাজকতা করলে, গোলযোগ করলে হাত-পা ভেঙে দেবেন।

সমঝোতা না হলে : এ দিকে বিএনপি দাবি আদায় করেই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিও তারা নিশ্চিত করতে চায় রাজপথে। বিএনপি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবে কি না তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনÑ এ দুই ইস্যুতে আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে দলটি। তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই এ রোডম্যাপ চূড়ান্ত হচ্ছে। দলটির নেতারা বলেছেন, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে তারা এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে নানাভাবে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হবে। সরকার শেষ পর্যন্ত সঙ্কটের সমাধান না করে একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করলে প্রতিবাদে একযোগে মাঠে নামা হবে।

২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানান, ওই সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে আওয়ামী লীগ। বিএনপির বাইরে থাকা প্রায় সব দল নিয়ে তারা রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি পেশাজীবীরাও ওই আন্দোলনে শরিক হন। একপর্যায়ে ওই সময় নির্বাচনের ঘোষিত দিনক্ষণ বাতিল হয়ে যায়। বিএনপির আন্দোলনও এবার অনেকটা ২০০৭ সালের মতো হতে পারে। ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কথা এ ক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেন বিএনপির ওই নেতা।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আগামীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির ছক কেমন হবে, তা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিনিয়র নেতাদের সাথে শলাপরামর্শ করেছেন। তিনি একটি কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে যেতে চান বলে জানা গেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি মাঠে আছে, যদি তারা এভাবেই মাঠে থাকতে পারে তাহলে পরিবর্তন আসবেই। জনগণ সেই পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই করব, আবার রাজপথেও থাকতে হবে। সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech