কোরবানি সামনে রেখেই মসলার বাজারে আগুন - ব্যবসা-বাণিজ্য - Premier News Syndicate Limited (PNS)

কোরবানি সামনে রেখেই মসলার বাজারে আগুন

  

পিএনএস ডেস্ক: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেই আগাম বাড়তে আরম্ভ করেছে সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাম দাম। এ সুযোগ কাজে লাগান কিছু মুনাফালোভী ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী।

রাজধানীর মুগদা, খিলগাঁও, মালিবাগ ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি জিরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, তেজপাতা ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, দারুচিনি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, লবঙ্গ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়, এলাচি ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় , কালো গোলমরিচ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়, সাদা গোলমরিচ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, জয়ফল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, জয়ত্রী ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা , কিসমিস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, আলু বোখারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, কাঠবাদাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, পোস্তাদানা ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির তালিকায় আছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ। মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। আমদানি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে।

দেশি ছোট রসুনের দাম পড়ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

এদিকে সরকারি বাজার মনিটরিং সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে জিরা, দারুচিনি, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম।

সংস্থাটি বলছে, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা, মানভেদে ৭০ থেকে ১২০ টাকার আদা বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১৪০ টাকা।

আমদানি রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এখন আমদানি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়; যা এক মাস আগে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ৩০০ টাকার দারুচিনি ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া এক মাস আগে এলাচি বিক্রি হয়েছে ১৬শ’ থেকে দুই হাজার টাকায়; যার বর্তমান মূল্য দেয়া হয়নি।

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মুগদার মুদি ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মসলার দাম চড়া। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে।

গত সপ্তাহে মৌলভীবাজার থেকে মসলা কিনেছিলাম। আগের তুলনায় এলাচি ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া জিরা, গোলমরিচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দামও বাড়তির দিকে।

ঈদের আগে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এ খুচরা ব্যবসায়ী।

গরম মসলা বিক্রেতা সমিতির সভাপতি হাজী মো. এনায়েতউল্লাহ বলেন, আমাদের পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়েনি।

খুচরা বাজারে দাম বেশি হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কয়েকটি পণ্যে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে, সেখানে বেশি নেওয়া অযৌক্তিক।

দাম বাড়ার বিষয়ে মৌলভীবাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী হাজী মো. আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, মসলার দাম পাইকারি বাজারে বাড়েনি। গত দুই মাস আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসলা।

তিনি বলেন, ‘এবার আমদানি বেশি হয়েছে। বাজারে মাল (মসলা) পর্যাপ্ত রয়েছে। ঈদের মসলা বেশি বিক্রির জন্য কম লাভেও বিক্রি করে দিচ্ছি। তাই এবার দাম বাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

হাজী আলাউদ্দিন আরও বলেন, ‘আজ ভালো মানের এলাচি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৭০ থেকে ১৬০০ টাকায়। জিরা, ভারতীয়টা ৩২৫ থেকে ৩৩০ টাকা, গোলমরিচ কালোটা ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা আর সাদা গোলমরিচ ৬৪০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মসলা খুচরা বাজারে কত টাকায় বিক্রি হবে, সেটা তো আমরা ঠিক করে দেব না।’

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech