শপিংমল ও বিপণিবিতান খোলা; চিন্তিত ব্যবসায়ীরা

  

পিএনএস ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে লকডাউন ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও শপিংমল ও বিপণিবিতান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১০ মের মধ্যে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও অর্থনৈতিক প্রবাহ ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত। তবে ঈদের আগে মাত্র দুসপ্তাহের জন্য মার্কেট বা দোকান খোলা রেখে তেমন ব্যবসা হবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

দেশের ঈদবাজারে পোশাক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় গত বছর। চলতি বছরেও এমনটাই আশা থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছুই উলট-পালট। বাংলাদেশ মণিহার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঈদ আর রমজানে আমাদের মূলত পাইকারি বিক্রির লক্ষ্য থাকে। কিন্তু এখন মার্কেট খুলে দিলেও লকডাউনের কারণে অন্যান্য জেলা থেকে কোনো ক্রেতা আসবে না। ফলে তেমন বিক্রি হবে না জেনেই দোকান খুলতে হবে।

এখন ঢাকার ক্রেতাদের জন্য খুচরা বিক্রিই একমাত্র ভরসা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোট ব্যবসার ৭০ ভাগই মূলত পাইকারি বিক্রি থেকে আসে। এবার সব সম্ভাবনাই শেষ করোনার কারণে।’ এদিকে রমজানের সময় যাকাতের কাপড়ের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। এতে লাভ কম থাকলেও নিয়মিত ক্রেতা থাকায় ভালোই ব্যবসা হয়। তবে চলতি বছরে যাকাতে ধনীরা কাপড়ের বদলে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী দিচ্ছেন বলে জানান এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

ইসলামপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী
সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেসার আলী মোল্লা বলেন, ‘গত বছরের এ সময়ে দোকানপ্রতি ১০ লাখ কাপড় বিক্রি হয়েছে। এবার সেটা হাজার দশেক হবে হয়তো। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ। মার্কেট খুললে তা যদি ১০ শতাংশ পর্যন্তও গিয়ে উঠে তারপরও লাভের মুখ দেখা সম্ভব না। তবে কর্মচারীসহ আনুষঙ্গিক খরচ চালাতে দোকান খুলবেন অনেকে।’

রাজধানী সুপার মার্কেটের বুশরা ফ্যাশনের কর্ণধার শাহীন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকায় এখন আগের তুলনায় ২০ ভাগ ক্রেতা আছে। তাদের অনেকেই আবার ঈদে বোনাস দূরের কথা, বেতন নিয়েই চিন্তিত। তারপরও সাবধানতা অবলম্বন রেখে স্বল্প পরিসরে হলেও বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবমতে, সারাদেশে প্রায় ২৫ লাখ দোকান (মুদি থেকে কাপড়ের দোকান) রয়েছে। এসব দোকানে বছরের অন্য সময় প্রতিদিন তিন হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হলেও রোজার মাসে সেটা তিনগুণ বেড়ে হয় নয় হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে রোজার এক মাসে ২৫ লাখ দোকানে ঈদের পোশাক থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার। শুধু পোশাকের দোকানেই ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঈদের কেনাকাটা হয়।

বাংলাদেশ লেবার সার্ভের মত অনুসারে, দেশে ১২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও বেসরকারি খাতে প্রায় ২৫ লাখের নিয়মিত বেতন ও শ্রমের নিশ্চয়তা আছে। ফলে চলতি ঈদে ৩৭ লাখ চাকরিজীবী বোনাস পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর আনুষ্ঠানিক শ্রমে নিয়োজিত ৯২ লাখ এবং অনানুষ্ঠানিক ও চুক্তিভিত্তিক রয়েছেন প্রায় ৫ কোটি শ্রমিক, যাদের ঈদ বোনাস পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছে। সে হিসাবে প্রতিবছরের মত চাকরিজীবীদের ১২ হাজার কোটি টাকা বোনাস এবার ঈদ অর্থনীতি যোগ হচ্ছে না।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দিকে বেশি নিরাপত্তা বজায় রাখছে। শপিংমল ও বিপণিবিতানে ক্রেতা কেমন হবে তা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু এমন সময়ে লেনদেনে আর্থিক প্রবাহ তেমন ইতিবাচক দিকে যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।

আবার যদি এ লেনদেনের সময় কেউ আক্রান্ত হন, তার চরম মূল্য দিতে হবে।’
এদিকে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সবার কথা বিবেচনা করেই সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করে মার্কেট খোলা হবে। অতিরিক্ত মুনাফা বা বিশেষ লাভের জন্য নয়; মূলত দোকানের খরচ, কর্মচারীদের বেতন-বোনাসের জন্যই এ সিদ্ধান্ত।’

পিএনএস/হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন