১৫০ ছুঁই ছুঁই পেঁয়াজের কেজি! - অর্থনীতি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

১৫০ ছুঁই ছুঁই পেঁয়াজের কেজি!

  

পিএনএস ডেস্ক:রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে বেশ আগেই। দাম বাড়তে বাড়তে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় দেড়’শ টাকার কাছে চলে এসেছে।

পেঁয়াজের এমন দামে অবাক অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও। ফলে অনেক ব্যবসায়ী পাইকারদের কাছ থেকে দেশি পেঁয়াজ না কিনেই ফিরে এসেছেন। এতে কোনো কোনো বাজারে দেশি পেঁয়াজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার কাওরানবাজার, শান্তিনগর, রামপুরা, মালিবাগ, হাজীপাড়া এবং খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সকাল থেকে রাত অবধি ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে থাকে হাজীপাড়া বৌ-বাজার। এখানে কাঁচা সবজি বিক্রি করেন শতাধিক ব্যবসায়ী। আর পেঁয়াজ বিক্রি করেন কমপক্ষে ২০ জন।

শুক্রবার বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ব্যবসায়ীর কাছেই দেশি পেঁয়াজ নেই। যারা পেঁয়াজের ব্যবসা করেন তাদের সকলে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। প্রতিকেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়।

এই বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, ভাই, দেশি পেঁয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে। গত সপ্তাহে পাইকারি বাজার থেকে যে পেঁয়াজ ৭৫ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম, সেই পেঁয়াজ এখন চাচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। এই দামে পেঁয়াজ কিনে কিছুতেই ১২০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। তাই দেশি পেঁয়াজ না এনে শুধু ভারতীয় পেঁয়াজ এনেছি।

বাজারটি থেকে বেরিয়ে রামপুরা মোল্লাবাড়ি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এই বাজারটিতেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। মোল্লাবাড়ির বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করেন কমপক্ষে ১৫ জন ব্যবসায়ী। এদের একজন মো. কামাল বলেন, দেশি পেঁয়াজ কেনার অবস্থায় নেই। দাম হু হু করে বাড়ছে। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের যে দাম, ওই দামে পেঁয়াজ কিনে ১৩০ টাকা কেজি দরের নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। এ জন্য দেশি পেঁয়াজ আনিনি।

এরপর রামপুরা অঞ্চল থেকে শান্তিনগরে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটিতে বেশ কয়েকজন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এদের একজন মো. আবুল বাশার বলেন, এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৮৫ টাকা।

পেঁয়াজের এতো দাম কেন জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ভাই সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। হিসাব করে দেখেন গত সপ্তাহের তুলানায় প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকার ওপরে। গত সপ্তাহে আমরা ৯০ টাকা কেজি দরেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। এখন ১২০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, লাউ এখন বাজারে ভরপুর। সঙ্গে করলা, ঢেড়স, বেগুন, শাল গম, পাকা ও কাঁচা টমেটা সবকিছুর সরবরাহই রয়েছে পর্যান্ত। ফলে দামও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে।

তবে পেঁয়াজের মতো বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। প্রতিকেজি কাঁচামরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এক দিন আগেও প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

বেশকিছুদিন ধরে এক’শ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। প্রতিকেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে; যা গত সপ্তাহে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর কাঁচা টমেটো আগের মতোই ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে শিম, লাউ, শালগম, করলা, মুলা। প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা, শালগমের কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, মূলা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে বেগুনেরও। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফুলকপি, বাধাকপি আগের মতোই ২৫ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech