শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফিস আদায়, বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে জেলা প্রশাসকের স্মারকলিপি

  

পিএনএস : সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চট্টগ্রামের অনেক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, সামরিক বাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নতুন বছরে ভর্তি, পুনঃ ভর্তি, এসএসসি পরীক্ষা, বিভিন্ন ক্লাসের সমাপনী পরীক্ষায় অনুপস্থিতি জরিমানা, উন্নয়ন ফিস, সিটিকপোরেশন ফিস, ছাড়পত্রের সময় নামে-বেনামে বিপুল পরিমান অতিরিক্ত ফিস আদায় হচ্ছে, যার স্বচিত্র প্রতিবেদন পত্র পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে প্রচারিত হলেও শিক্ষা প্রশাসনে নিয়োজিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসগুলির চরম উদাসীনতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য “আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসে নি”।

এ ধরনের অতিরিক্ত ফিস প্রদানে সীমিত আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে, অনেকের আবার শিক্ষা জীবনেরও ইতি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে বিগত বছরগুলিতে এসএসসিতে অতিরিক্ত ফিস আদায়কারী অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় এ বছর দ্বিগুন-চারগুন পর্যন্ত অবৈধ অতিরিক্তি ফিস আদায়ের মহোৎসব চলছে।

এ অবস্থায় জরুরী ভাবে শিক্ষা বানিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ। ৮ জানুয়ারি ২০১৭ইং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জেলা প্রশাসক মোঃ শামসুল আরেফিন স্মারকলিপি গ্রহন করেন। ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পদক জন্নাতুল ফেরদৌস, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহীন চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে ক্যাব দাবি করেছেন অবিলম্বে ভর্তি, পুনঃ ভর্তি, এসএসসি ও সমাপনী পরীক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফিস আদায়, উন্নয়ন ফিস ও ছাড়পত্রের সময় বিপুল অংক আদায়কারী প্রতিষ্ঠান সমুহ চিহ্নিত করা, তালিকা প্রকাশ, মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিটিকর্পোরেশন, ক্যাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে জড়িতদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তদারকি কমিটি গঠন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ফিস আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রনালয় জারিকৃত নীতিমালা নিয়ে মতবিনিময় করা, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে সরকারী নিবন্ধন, এমপিওসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাতিল, পরিচালনা কমিটি বাতিলসহ তাৎক্ষনিক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা অন্যতম।


স্মারকলিপিতে ক্যাব আরো দাবি করেছে অতিরিক্ত ফিস আদায়ের বিষয়ে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন দিবা স্বপ্নে বিভোর হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অতিরিক্ত ফিস আদায়ে কঠোর নজরদারি আনা এবং অপরাধ প্রমানিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি বাতিল, পরিচালনা পর্ষদ বাতিলসহ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন বিলম্বে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে স্কুলে ভর্তি বানিজ্য। সরকারী ও বেসরকারী নামী-দামী স্কুলে ভর্তির জন্য কোচিং ব্যবসা, ভর্তির সময় ডোনেশেন, বিভিন্ন ফিস আদায় করে মধ্যবিত্তসহ সকল নাগরিকদের মাঝে শিক্ষা অধিকারের পরিবর্তে একটি অতি ব্যয় নির্ভর পণ্যে পরিণত হয়েছে।

একজন সাধারন নাগরিককে ভর্তি, পুনঃ ভর্তি, টিউশন ফিস, বিভিন্ন জরিমানা, বাই-খাতা ইত্যাদির নামে এত খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে, যার ভারে মধ্যবিত্তের জীবন মরার উপর খারায় ঘাঁ যেন নিত্য সঙ্গী। আবার তার উপর পুনঃ ভর্তি, টিউশন ফিস আদায়ের কোন সামনঞ্জস্যতা নেই, যে যার ইচ্ছামতো গলাকাটা ভাবে ফিস আদায় করে পকেট ভর্তি করছে। ফিস আদায়ের এ মহোৎসব কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের মুল্যবৃদ্দির সাথে কোন অংশে কম নয়।

এ অবস্থায় অবিলম্বে সরকারী-বেসরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কেজি স্কুল গুলির অতিরিক্ত ফিস আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া হলে সাধারন জনগনকে প্রতারিত হতে হচ্ছে এবং যা সমাজে অস্থিরতা ও জনভোগান্তির নিত্য নতুন মাত্রা যোগ হবে।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech