চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ

  



পিএনএস ডেস্ক: নীল সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিশেষায়িত মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এবার সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হতে পারে।


পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্থাপন আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। তখন থেকে অস্থায়ীভাবে চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এর মধ্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেয়া হয়।

সম্প্রতি ইউজিসির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন সংক্রান্ত প্রস্তাব আসে। প্রস্তাব অনুসারে, নীল সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক সুবিধাসহ দেড় হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ফলে ব্যয় হবে ৯৬৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ ব্যয় হবে।


প্রকল্পের আওতায়, চট্টগ্রামের চর রাঙামাটিয়ার হামিদচর এলাকায় প্রায় একশ একর জমিতে ‘গ্রিন ফিল্ড প্রজেক্ট’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের মধ্যে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন ২০২১ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায় এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায় শেষ করা হবে। এই আলোতেই পরিকল্পনা কমিশন কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মুহাম্মাদ দিলোয়ার বখতের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, মেরিটাইম সেক্টরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধিশালী করার সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা থেকে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। মেরিটাইম সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেন, পুরো পৃথিবীতে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১২টি। বাংলাদেশে এই প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চট্টগ্রামের মাটিতে। বঙ্গবন্ধু সমুদ্র আইন করেন ১৯৭৪ সালে।
যার অনেক বছর পরে ১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন পাস হয়। এমন এক দূরদর্শী ব্যক্তির নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্র সীমা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০টি ইকনোমিক জোনের পরিকল্পনা করেছেন। যার বেশিরভাগই উপকূলীয় এলাকা। যেখানে আমাদের প্রচুর দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। এখনো পর্যন্ত আমরা বিদেশি জনবলের ওপর নির্ভরশীল।

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সমুদ্র সম্পদ সঠিক ব্যবহার করে সুনীল অর্থনীতি নিশ্চিত করতে হবে। যার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন ক্যারিয়ার গড়ার প্লাটফর্ম হবে এই সুনীল অর্থনীতি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech