টিউমারের বৃদ্ধি ঠেকায় ফুলের চা!

  

পিএনএস ডেস্ক: ফুলের সৌন্দর্য মনের খিদে মেটায়। গাঁদা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ফুল। জানেন কি? সুন্দর এই ফুলটি বিভিন্ন রোগের মহৌষধ। গাঁদা ফুলের চা মূলত ঔষধ হিসেবে বানানোর প্রচলন শুরু হয়। পুষ্টিগুণ ও উপকারের জন্য ধীরে ধীরে এই চা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে এই ফুলে। আছে আরো বিটা ক্যারোটিন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাড়ের ক্ষয় রোধ ও আথ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে গাঁদা ফুলের চা ভূমিকা রাখে। এছাড়াও গাঁদা ফুলের চায়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে
অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগেন। যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন তাদের জন্যে সুখবর। গাঁদা ফুলের চা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। গাঁদাফুলের চা হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
বেশ কিছু গবেষণায় জানা গেছে, গাঁদা ফুল ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। গাঁদা ফুলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাভনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও রোধ করতে সক্ষম গাঁদা ফুলের চা। পাকস্থলীর ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে এর ভূমিকা আছে।

ত্বক ভালো রাখে
গাঁদা ফুলের চায়ে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা ত্বকের জন্য উপকারী। গাঁদা ফুলের চা নিয়মিত খেলে ত্বক হবে মসৃণ ও ব্রণ মুক্ত।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব দূর করে
গাঁদাফুলের চা এক চমৎকার ঔষধ। প্রতিদিন সকালে গাঁদাফুলের চা খেলে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও গাঁদা ফুলের চা ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

ক্ষত ও আঘাত
গাঁদা ফুলের পাতার রস কাঁটা, ক্ষত, সারাতে অত্যন্ত কার্যকরী। হঠাৎ শরীরে কোথাও কেটে গেলে গাঁদা ফুলের পাতা বেঁটে কাটা জায়গায় প্রলেপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়, ব্যথা কমে যায় ও তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে। গাঁদা ফুলের পাতার রস ক্ষত জায়গায় লাগালে তা দ্রুত সেরে যায়।

কান পাকা রোগ
বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা গোসলের সময় পানি নিয়ে খেলা করে আর খেলা করতে করতে পানি কোন ফাঁকে কানে চলে যায় বাচ্চারা বুঝতে পারেনা যার কারণে বাচ্চাদের কান পাকা রোগ হয়। গাঁদা ফুলের পাতার রস কান পাকা রোগ ছাড়াও ছত্রাকনাশক হিসেবে বেশ কার্যকরী।

টিউমার নিয়ন্ত্রণ
গাঁদা ফুলের নির্যাস টিউমারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। টিউমারের মত কঠিন রোগ ও সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

মারাত্মক নেমাটোড
জমিতে গাঁদা ফুল গাছের শুকনা গুঁড়া বা অপ্রয়োজনীয় অংশ ব্যবহার করে নেমাটোডের মতো মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সুগন্ধি তৈরি
বিভিন্ন ধরনের তেল ও সুগন্ধি তৈরি করতে গাঁদা ফুলের রস রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।

পাইলস ও অর্শ্বের রোগ
গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি সামান্য মাখনের সঙ্গে মিশিয়ে অল্প পরিমাণে কয়েকদিন খেলে পাইলস বা অর্শ্বের সমস্যা দূর হয়।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন গাঁদা ফুলের চা

উপকরণ: ২ চা চামচ গাঁদা ফুলের শুকানো পাপড়ি, লেবুর রস, মধু ও পানি।

প্রণালী: এক কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে ২ চা চামচ গাঁদা ফুলের পাপড়ি দিন। এরপর ৩ থেকে ৪ মিনিট জ্বাল দিন। চা নামিয়ে ছেঁকে কাপে ঢালুন। সামান্য লেবুর রস ও পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন পুষ্টিকর গাঁদা ফুলের চা।


পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech