‘চীনকে ঘিরে ফেলা হবে’

  

পিএনএস,ডেস্ক : রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের চারদিকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল বুশ প্রশাসন। কিন্তু রাশিয়াসহ তার মিত্রদেশগুলোর প্রতিবাদের মুখে পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে তা সাময়িকভাবে, কিছুদিনের জন্য মাত্র।

শেষ পর্যন্ত বুশ প্রশাসন রাশিয়ার চারদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ ঠিকই স্থাপন করে। তবে ঘোষণা দেয়, এর লক্ষ্য রাশিয়া নয়, বরং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতেই এই উদ্যোগ । তারপর আর কোনো বাধা নেই, বুশ প্রশাসন তার কাজ ঠিকই উদ্ধার করে, স্থাপন করে প্রতিরক্ষা ব্যুহ।

ঠিক একইভাবে চীনের পূর্ব সীমান্তের চারদিকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। এ কাজ করতে গিয়ে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে উত্তর কোরিয়াকে।

কিন্তু সমস্যা হলো চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া একটি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। এর অর্থ ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে দেশটিকে।

সম্প্রতি উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন ই-মেইল বার্তা থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে ২০১৩ সালে গোল্ডম্যান সাচে ব্যাংকারদের সভায় দেওয়া হিলারি ক্লিনটনের বক্তৃতাও রয়েছে।

হিলারি বলেছিলেন, চীন যদি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সামাল দিতে না পারে, তাহলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ দিয়ে চীনকে ঘিরে ফেলা হবে।

ওই বক্তৃতায় হিলারি আরো বলেন, ছোট আকারে পারমাণবিক ওয়্যারহেড বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার হাতে থাকুক, ওয়াশিংটন তা চায় না। এ ছাড়া এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আরো রণতরী পাঠাবে চীনের আশপাশের জলসীমায়।

হিলারি বলেন, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের বলেছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এই এলাকায় নৌযুদ্ধ করেছে। তাই চীনের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও দাবি রয়েছে এই এলাকায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টটির কথা অস্বীকারও করেনি, স্বীকারও করেনি। কেবল বলেছে, এসব কূটনৈতিক বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে পারবে না।




পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech