কাশ্মীরে ঘরে ঘরে তল্লাশি, গ্রেফতার ৪৪

  



পিএনএস ডেস্ক: ভারত শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তাবাহিনীগুলোর এক যৌথ তল্লাশি অভিযানে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

সোমবার গভীর রাত থেকে বারামুলায় ওই অভিযান শুরু হয়।

চীন ও পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা, লস্কর-এ-তৈয়বা এবং জায়েশ-ই-মুহম্মদের মতো উগ্র সংগঠনগুলোর প্রচার পুস্তিকা এবং পেট্রোল বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

এক সেনা মুখপাত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, "ওই অভিযান চলাকালে কমপক্ষে সাত শ' বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৪ জনকে। এদের সাথে উগ্রবাদী কার্যকলাপের যোগ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশবিরোধী প্রচার পুস্তিকা আর বেআইনী মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।"

ওই এলাকায় কয়েকজন উগ্রবাদী আশ্রয় নিয়েছে, এই নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তল্লাশি অভিযান চলেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

সোমবার মাঝরাতেরও পরে ওই অপারেশন শুরুর আগে কয়েকটি এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে যেতে বলে নিরাপত্তাবাহিনী।

শ্রীনগর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির সময়ে এটা দেখা হচ্ছিল যে, কোন কোন অল্পবয়সী ছেলেদের গায়ে ছররার আঘাত রয়েছে। দেহে ছররার আঘাত থাকার অর্থই হলো ওই ব্যক্তি সম্প্রতি বিক্ষোভ প্রদর্শনে গিয়েছিল।

তাই সন্দেহভাজন অশান্তি সৃষ্টিকারীদের সাথেই পেলেট বা ছররার আঘাত থাকা যুবকদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

জুলাই মাসের গোড়ায় হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে গোলাগুলির আঘাতে মারা যাওয়ার পরে গত এক শ' দিনেরও বেশি সময় ধরে ভারত শাসিত কাশ্মীরে যে অশান্তি চলছে, সেই সময়ে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী ব্যাপকহারে ছররা ব্যবহার করেছে বিক্ষোভকারীদের দিকে।

এখনও পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষ গত একশ' দিনে মারা গেছেন, ছররায় আহত হয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী। অনেকের চোখও নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে ১২২ জনকে গ্রেফতার করেছে। রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অশান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ ছিল।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech