ভারতকে জাকির নায়েকের চ্যালেঞ্জ

  

পিএনএস, ডেস্ক: ভারতীয় ইসলাম বিষয়ক বক্তা ড. জাকির নায়েক তার প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে (আইআরএফ) নিষিদ্ধ করাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
শুক্রবার ভারতের দিল্লির একটি আদালতে ইসলামি গবেষণা সংস্থা আইআরএফ বন্ধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তোলার জন্য আবেদন জানান।
এদিন আইআরএফ এর আইনজীবী এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য শোনেন বিচারপতি সঞ্জীব সচদেব। বিচারপতি কেন্দ্রীয় সরকারকে ১৭ জানুয়ারির ভেতর আইআরএফ কে নিষিদ্ধ করা নিয়ে যাবতীয় তথ্য জমা দিতে আদেশ দেন। তারপরই তিনি জানাবেন যে, আইআরএফ কে জরুরি ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল কিনা।
জাকির নায়েকের আইনজীবি সংবাদ মাধ্যমে জানান, সরকার আইআরএফকে নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু কোনও কারণ যুক্তিগ্রাহ্য দেখানো হয়নি। ভারতীয় আইনের ইউএপিএ ধারায় যে অভিযোগে আইআরএফকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা যুক্তিযুক্ত নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই আদেশকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উপযুক্ত কারণ দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবি অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সঞ্জয় জৈন আদালতে জানিয়েছেন, আইআরএফ বন্ধের বিষয়ে সব ধরনের প্রমাণপত্র দেখানো হয়েছে।
আইআরএফের সদস্যদের এ ব্যাপারে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। ওই সংগঠনটি। ভারতীয় যুবকদের কট্টরপন্থায় দীক্ষা দিচ্ছিল। এদের অনেকেই আবার জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দিতে যাচ্ছিল। এর পেছনে রয়েছে জাকির নাইকের বক্তৃতা।
সম্প্রতি জাকির নায়েকের প্রতিষ্ঠিত আইআরএফকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার। বে আইনিভাবে কর্মকা- প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) আইআরএফ ও প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আইআরএফের সব কার্যকলাপের ওপরে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি অনুদান আনতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর জাকির নায়েকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার। এ ছাড়া ‘ধর্মীয় বৈরিতা’ ছড়ানোর দায়ে জাকির নায়েকের ব্যক্তিগত ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধেরও উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
এর আগে গুলশান হামলার সঙ্গে পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ১০টি স্থানে অভিযান চালানো হয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ‘বৈরিতা’ ছড়ানোর অভিযোগ আনে দেশটির সরকার।
এরপর গত সোমবার সৌদি আরবে অবস্থানরত এই ধর্মবিষয়ক বক্তাকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগের কথাও জানায় এনআইএ। নিরাপত্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সেখান থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলেরও সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech