যুক্তরাষ্ট্রকে সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় যেতে দিবে না মায়ানমার

  

পিএনএস ডেস্ক: সেনাবাহিনীর হামলা-নির্যাতন-ধর্ষণের মুখে রাখাইন রাজ্যের যে এলাকা থেকে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান তাদের বাস্তুভিটা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, সেই সহিংসতাপ্রবণ এলাকা কোনো অবস্থাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে পরিদর্শন করতে দেবে না মিয়ানমার।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে দুই ডজনের বেশি সেনা ও পুলিশ ক্যাম্পে হামলার পর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ধরার নাম করে সেনাবাহিনী সেখানে ধারাবাহিক হামলা-নির্যাতঅগ্নিসংযোগ শুরু করে বলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুরুষদের ধরে ধরে নিয়ে হত্যা করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে আর মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থাকে ‘জাতিগত নিধনের দ্রোপদী উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

মুসলিম রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে—মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, এরই মধ্যে এই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।

এই অবস্থার মধ্যেই মিয়ানমারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ দলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মারফি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় মানবিক সাহায্য দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের সেখানে যেতে দেওয়ার উচিত মিয়ানমারের।

তবে মিয়ানমার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল রাজধানীতে যেতে পারবেন এবং সেখানে রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতা অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতুতেও যেতে পারবেন এবং রাজ্য গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

কিন্তু মার্কিন প্রতিনিধি দলকে রাখাইনের সহিংসতাপ্রবণ মংডু এলাকায় যেতে দেওয়া হবে না বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন রাখাইন রাজ্যের সচিব তিন মং শয়ে।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এ হামলার দায় স্বীকার করে। গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে আরসার এক শীর্ষ নেতা দাবি করেন, তাঁরা জিহাদি নন, জাতীয়তাবাদী।

পুলিশ ও সেনাক্যাম্পের হামলার সূত্র ধরেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। তখন থেকেই বাংলাদেশ অভিমুখে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech