ট্রাম্পকে সাবধান করছে পুরো বিশ্ব

  


পিএনএস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিলে মধ্যপ্রাচ্য কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়বে, সে ব্যাপারে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা তাঁকে সতর্ক করে চলেছেন। মিত্র নেতাদের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে জেরুজালেম ইস্যুতে সিদ্ধান্তগ্রহণ বিলম্বিত করেছেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন গত শনিবার জানায়, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাসটি তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়া প্রকারান্তরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, ওয়াশিংটনের এমন ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে সতর্ক করছেন তাঁর মিত্ররা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গত সোমবার ফোনে কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফোনালাপে ম্যাখোঁ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমে জেরুজালেম সংকট সমাধানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানান দিয়েছেন। ম্যাখোঁ বলেছেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন যেন জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে পেয়ে শান্তি, নিরাপত্তাসহ সহাবস্থান করতে পারে, সে জন্য এ দুটি রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা নিশ্চিত করতে হবে। ’

১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে জেরুজালেম দখল করে নেওয়ার পর ওই এলাকাকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করে ইসরায়েল, যদিও এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী করা নিয়ে আজও তীব্র দ্বন্দ্বে লিপ্ত ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন।

এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘জেরুজালেম দূতাবাস আইন’ করে। আইন অনুসারে ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। তবে ওই আইন পাস হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছয় মাস পর পর দূতাবাস স্থানান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করে আসছেন। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার ফের ছয় মাসের স্থগিতাদেশ প্রদানের পরিবর্তে দূতাবাস স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হন। কিন্তু ইউরোপ ও আরব বিশ্বের নেতাদের প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন। এমনকি মার্কিন কর্মকর্তারা এমন ধারণাও করছেন, ট্রাম্প হয়তো আবার দূতাবাস স্থানান্তরে স্থগিতাদেশ দেবেন। গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর তিনি পূর্বসূরিদের মতো এরই মধ্যে একবার এ স্থগিতাদেশে অনুমোদন দিয়েছেন।

জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে কী ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে তাঁকে শুধু একটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, তা নয়। খোদ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার’ আশঙ্কা জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলেছে, ‘যেকোনো সিদ্ধান্ত অথবা একতরফা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জেরুজালেম পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করলে সেটার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সেটা আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল অংশজুড়ে জনমতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শান্তিপ্রক্রিয়া ফের শুরু করার দিকে এবং এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার মতো যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দিকে নজর দেওয়া উচিত। ’

এদিকে খোদ ফিলিস্তিন গতকাল হুমকি দিয়েছে, ট্রাম্প যদি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেন, তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তিপ্রক্রিয়ায় তার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে। ’ সূত্র : এএফপি।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech