পিএনএস ডেস্ক: ইসলাম মানুষের জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ করার শিক্ষা দেয়। তাই ইসলামে এমন খেলাধুলাকেই উৎসাহিত করা হয়েছে, যা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সাহসিকতা গড়ে তোলে এবং ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে। বিশেষত যেসব খেলাধুলা আত্মরক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও জাতির উপকারে আসে, সেগুলো ইসলামে পছন্দনীয় বলে বিবেচিত। ইসলামের প্রথম যুগে যেসব খেলাধুলা হত এমন কিছু খেলা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
অশ্বচালনা
অশ্বচালনা ইসলামে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি খেলা ও প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সাহসিকতা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং দূরদর্শিতা গড়ে ওঠে। ইসলামের ইতিহাসে অশ্বচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি উপায় হিসেবেও বিবেচিত।
তীরন্দাজি
তীরন্দাজি ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় খেলা। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে সক্রিয় ও দক্ষ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি লক্ষ্যভেদ করার সক্ষমতা অর্জনের ফলে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার যোগ্যতাও বৃদ্ধি পায়। অতীতে যুদ্ধক্ষেত্রে তীরন্দাজির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তাই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
সাঁতার শিক্ষা
সাঁতার শেখা ও শেখানোও ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘চারটি বিষয় ছাড়া আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্ছিন্ন অধিকাংশ কাজই অনর্থক খেল-তামাশা। (১) স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানো; (২) নিজের ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, (৩) লক্ষ্যভেদ করার অনুশীলন করা এবং (৪) সাঁতার শেখা।’ (সুনানে নাসায়ী, হাদিস : ৮৯৩৯)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সাঁতার এমন একটি দক্ষতা, যা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনে জীবন রক্ষায়ও সহায়ক হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে এসব খেলাধুলার গুরুত্ব
আরেক হাদিসে আছে, ‘আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে প্রিয় খেলাধুলা হলো অশ্বচালনা ও তীরন্দাজি।’ (ইবনে আদী, ৬/১৭৬০)।
যদিও হাদিসটির সনদ দুর্বল বলে মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন, তবুও এর মর্মার্থ অন্যান্য সহিহ বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসলাম খেলাধুলার বিরোধিতা করে না, বরং এমন খেলাধুলাকে উৎসাহিত করে, যা মানুষের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক উন্নতিতে সহায়তা করে। তীরন্দাজি, অশ্বচালনা ও সাঁতার কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো দক্ষতা, আত্মরক্ষা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই মুসলমানদের উচিত উপকারী ও উদ্দেশ্যপূর্ণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং তা থেকে ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ সাধন করা।
পিএনএস/এএ
ইসলামের প্রথম যুগে যেসব খেলাধুলা হত
12-06-2026 04:23PM

