পানির নিচে ঢাকা

  

পিএনএস ডেস্ক: টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানী ঢাকার সব সড়ক। এমনকি সড়কের চেয়ে উঁচুতে থাকা ফুটপাতেও হাঁটু সমান পানি।

বিশেষ করে পানি নেমে যাওয়ার সর্বশেষ জায়গা যাত্রবাড়ী, মিরপুর ও গাবতলী এলাকার অলিগলিতে কোমর সমান পানি জমেছে।

সারা দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আজ শনিবার সারাদিন বৃষ্টিপাত হলেও বিকেল থেকে কয়েক জায়গায় কমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টি আগামীকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিম্নচাপের ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়কে যানবাহন চলাচলও থমকে গিয়ে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুক্রবার সরকারি ও বেসরকারি ছুটি থাকায় ঘর থেকে মানুষরা নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হননি। শনিবার বেসরকারি পর্যায়ে অফিস খোলা থাকলেও প্রয়োজন ছাড়া কেউ আসেননি। রাস্তায় গণপরিবহনও কম বের হয়েছে।

সকালে আকাশে কালো মেঘ ও ঝিরঝির বৃষ্টি দেখেও যাঁরা বাইরে বের হয়েছিলেন, তাঁদের সামান্য হলেও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। দিন যত গড়িয়েছে, আকাশ থেকে নামা বৃষ্টির পানি রাজধানীর সড়ক-অলিগলিতে তত জমেছে।

রাজধানীসহ সারাদেশে গত দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের বেশি বিপাকে পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিকে মাথায় নিয়েই তাদের কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। তবে অনেকেই খুব বেশি জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শহরের রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যাও অন্যান্য দিনের
তুলনায় অনেকটা কম দেখা যায়। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির চলমান আজকের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

আবহাওয়ার অফিসের এক সতর্কবার্তায় শনিবার জানানো হয়, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল,পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে ২৭১ মিলিমিটার। একই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৪৯ মিলিমিটার।

শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি সকাল ৯টায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। সুত্র: কালের কন্ঠ

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech