দেশজুড়ে সড়কের নাকাল অবস্থা!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বাবার ভয়াবহ অসুস্থতার খবরে অনেক দিন পর দ্রুত গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। পথে পথে তো বটেই, নিজের উপজেলায় গিয়ে সড়কের দুরবস্থা যাত্রী ও পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। পথচারি, যাত্রী ও ডাইভারদের খিস্তিখেউর ভ্রমণ-বিড়ম্ভনার যন্ত্রণায় রসিকজনদের জন্য দারুণ উপভোগ্য।

বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে মন খারাপ থাকলেও সহযাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচি ও টিটকারি শুনে নিজের অজান্তেই হাসি পায়। মনে মনে ভাবি, এই সড়ক আর বাবার অসুস্থার মধ্যে ফারাক দেখছি না। পার্থক্য শুধু, বাবার জন্য আমাদের ভাবতে হয়; কিন্তু সড়কের জন্য কারো ভাবনা থাকলে এমন দুর্ভোগ বাসা বাঁধত না।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কথা বলছি। সেখানের কচুয়া-গৌরিপুর সড়ক, বিশ্বরোডসহ স্থানীয় সড়কগুলোর করুণ হাল কথিত উন্নয়নের রাজনীতির জন্য ভয়ানক লজ্জার। এখানের সড়কগুলোর বেহালদশা জানান দিচ্ছে দেশব্যাপী সড়কের করুণ পরিণতির নানা দিক।

হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশের সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। বেশির ভাগই যেন মরণ ফাঁদ। অনেকেই এগুলোকে গর্ভপাত সড়ক বলে থাকেন। ভুক্তভোগীরা প্রায় প্রতিনিয়ত গাল-মন্দ করতে করতে যাতায়াত করেন। সড়কপথের মহা কেলেঙ্কারির বিবরণ সহজে শেষ করা যাবে না।

গত নভেম্বর মাসে সৈয়দপুর হয়ে জয়পুরহাট যাই। সড়কের নাজুকতায় ফিরতি পথে অন্যদিক দিয়ে আসি। সেখানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার যতটা পথ ছিল, পুরোটার চিত্রই করুণ। ব্যাপারটি বেশ ভাবায়। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার সড়কটির দুরবস্থা কবে দূর হবে, জানি না।

সৈয়দপুর-জয়পুরহাট সড়কের করুণ হালের তারণে ফিরতি পথে অন্যদিক দিয়ে আসি। কচুয়ার সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক পথ ঘুরে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার পথে চাঁদপুর হয়ে লঞ্চে ঢাকায় আসি। চাঁদপুর যেতেও সড়কের রুগ্ণ অবস্থা কম যন্ত্রণা দেয়নি। দেশব্যাপী সড়কগুলোর অসুস্থতা কবে কাটবে, ভেবে কূল পাচ্ছে না অভিজ্ঞ মহল।

কচুয়ার সড়কপথের নাকাল অবস্থায় গর্ত আর ধূলা একাকার। এ অবস্থায় সড়কে যানবাহনের যাত্রী এবং পথচারীদের ধূলার অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। বয়সের ভার আর শীতে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জটিলতা বাড়ে অতি সহজে। নাক-মুখের চেহারা সহজেই পাল্টে যায়। এতে শ্বাসকষ্টের রোগীদের কষ্ট আরো বাড়ে।

ইতিপূর্বে ‘যত বড় নেতা তত বড় গর্ত’ শীর্ষক একটি লেখা লিখেছিলাম। একটি টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু চাঁদাবাজদের অত্যাচারে ঠিকাদার নাকি কাজ করতে পারছেন না। ফলে সড়কগুলোর যে লাউ সে কদু অবস্থা। কচুয়ার সড়কগুলো দিয়ে নিত্য যাতায়াতকারীদের যন্ত্রণা লাঘবে এইগুলো দ্রুত চলাচল উপযোগী করা সময়ের দাবি।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech